গাইবান্ধায় নির্বাচনি মাঠে দুই নারীর সাহসী পদচারণা

কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা

সারাদেশ

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে গাইবান্ধা জেলার পাঁচ আসনে জমে উঠেছে প্রচারণা। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা

2026-01-28T18:11:46+00:00
2026-01-28T18:11:46+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
গাইবান্ধায় নির্বাচনি মাঠে দুই নারীর সাহসী পদচারণা
কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১১ পিএম   (ভিজিট : ৯৩৮)
দুই প্রার্থী মোছা. ছালমা আক্তার ও রাহেলা খাতুন। সংগৃহীত ছবি
আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে গাইবান্ধা জেলার পাঁচ আসনে জমে উঠেছে প্রচারণা। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন দুই নারী প্রার্থী মোছা. ছালমা আক্তার ও রাহেলা খাতুন। পুরুষপ্রধান নির্বাচনি মাঠে তাদের উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীকে রাহেলা খাতুন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মোছা. ছালমা আক্তার। 

জেলায় পাঁচ আসনে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ৮ জন স্বতন্ত্র। পাঁচটি আসনে ভোটার সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখের বেশি। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রার্থীরা দিচ্ছেন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নানা প্রতিশ্রুতি।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে কলস প্রতীক নিয়ে  লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. ছালমা আক্তার শিল্পী। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্য শান্তিরাম গ্রামের বাসিন্দা এবিএম মিজানুর রহমানের স্ত্রী। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ছালমা আক্তার বলেন, এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমার অগ্রাধিকার। নির্বাচিত হলে নারীদের কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়তে কাজ করব।

অন্যদিকে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে বাসদ (মার্কবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাহেলা খাতুন। তিনি গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই আসনেও বিএনপি-জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ নয়জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন।

রাহেলা খাতুন বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়ে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ বাড়াচ্ছে। নারী ভোটারদের পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের একটি অংশ উন্নয়ন ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গাইবান্ধার নির্বাচনি মাঠে নারী প্রার্থীদের এই উপস্থিতি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

পুরুষপ্রধান রাজনীতির মাঠে দুই নারী প্রার্থীর উপস্থিতি অনেক ভোটারের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সুন্দরগঞ্জের মধ্য শান্তিরাম গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, আমরা নারীরা রাজনীতিতে কম আসি। ছালমা আপা মাঠে নামায় আমাদের মেয়েদেরও সাহস বাড়ছে। তিনি যদি জেতেন, এলাকার স্কুল আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকে বেশি নজর দেবেন। এটাই আমাদের আশা।


ফুলছড়ির এক তরুণ ভোটার আরিফুল ইসলাম বলেন, রাহেলা খাতুন যেভাবে নদীভাঙন আর কর্মসংস্থানের কথা বলছেন, তা আমাদের মতো তরুণদের ছুঁয়ে যায়। বড় দলের প্রার্থীরা অনেক কথা বলেন, কিন্তু তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কথা শোনেন, এটা আলাদা।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই দুই নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ শুধু ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়নেরও একটি প্রতীক। তাদের মতে, গাইবান্ধার গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে এই সাহসী পদচারণা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   নির্বাচন  নারী  প্রার্থী  প্রচারণা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: