চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।
সবশেষ নিহত দুজন হলেন, বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরখিজিরপুর গ্রামের নুর নবী হৃদয় (২৫) এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের মধুরামপাড়ার বাসিন্দা উজ্জ্বল দাশ (৫৩)।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, বিস্ফোরণে অনেকে মারাত্মকভাবে আহত হন। এর মধ্যে উজ্জ্বল দাশের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং নুর নবী হৃদয়ের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে, গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫)।
নিহতদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সূত্র জানায়, উজ্জ্বল দাশ ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কারখানায় যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় হানাদার বাহিনীর হাতে শহিদ ১৪ জনের একজন বিরাজ দাশ ছিলেন উজ্জল দাশের বাবা। নিহত অন্য শ্রমিক নুর নবী হৃদয়ের এক বছর
বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১১ শ্রমিক দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে মারাত্মক আহত চারজনের মৃত্যু হলো। আহত অনেকে এখনো চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের অনেকে শঙ্কামুক্ত নন বলে জানা গেছে।
সময়ের আলো/জোই