বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন নতুন করে আরও ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ এবং সাংগঠনিক কাঠামো আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে অ্যামাজন ১৪ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। অ্যামাজনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গালেত্তি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা অপ্রয়োজনীয় স্তর কমাতে চাই, দায়িত্ববোধ জোরদার করতে চাই এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করতে চাই।’
গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই হতে পারে, যা অ্যামাজনের করপোরেট কর্মীদের প্রায় ১০ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, এই ছাঁটাই মূলত প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে; ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার ও ওয়্যারহাউজ সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫ লাখ কর্মীর বড় অংশ এতে প্রভাবিত হবে না।
নতুন ঘোষণায় কোন বিভাগ থেকে কতজন কর্মী ছাঁটাই হবে- সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি অ্যামাজন। তবে কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিমের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও গ্রাহকসেবার প্রভাব বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
আরও পড়ুন
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি অ্যামাজন তাদের ২০২৫ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এর আগে অক্টোবর মাসে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ছাঁটাই সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অ্যামাজন আরও জানিয়েছে, যেখানে সম্ভব হবে সেখানে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের বিকল্প পদে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যামাজনের এই পদক্ষেপ বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর চলমান কর্মী পুনর্গঠন প্রবণতারই অংশ। এর আগে মাইক্রোসফট গত জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়, যা তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৪ শতাংশ।
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি এর আগের দফা ছাঁটাই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো তাৎক্ষণিক আর্থিক সংকট বা এআই বিনিয়োগের চাপ থেকে নেওয়া হয়নি।
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও মহামারির সময় অতিরিক্ত নিয়োগের ভার কমাতে গত এক বছরে একাধিক দফায় কর্মী ছাঁটাই করেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এএসএমএল সম্প্রতি শতাধিক ব্যবস্থাপনা পদ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এইচপি ও ওরাকলের মতো প্রতিষ্ঠানও একই পথে হাঁটছে।
এদিকে অ্যামাজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে বড় বাজেট বরাদ্দ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) এখনো বিশ্বে শীর্ষ ক্লাউড সেবাদাতা হিসেবে মাইক্রোসফট আজুর ও গুগল ক্লাউডের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
এএডি/