জনগণের ভোটে বিজয়ী হলে বিএনপি তৃতীয় ভাষা শেখাকে বাধ্যতামূলক করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে ইয়ুথ সোসাইটি ঢাকা-১০ এর উদ্দ্যোগে ‘তারুণ্যের ভাবনায়, পরিবর্তনে ডাক ঢাকা ১০’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভোটারদের প্রশ্ন উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে রাষ্ট্রব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছে। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা খাতে কারিগরি ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং তৃতীয় ভাষা শেখাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, বিএনপি ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হয় তরুণদের তা বোঝা জরুরি। রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে সচেতন হলে কোন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য এবং কোন দাবির জন্য নীতিনির্ধারণ প্রয়োজন, তা স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, একজন সংসদ সদস্য কোনো নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী নন। সংসদ সদস্যের দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা রাষ্ট্র ও সরকারের নজরে আনা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা, প্রয়োজনে চাপ সৃষ্টি করা এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করা। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান তার হাতে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
ধানমন্ডি লেক প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, লেককে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সর্বসাধারণের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। অপরিকল্পিত ও মানহীন বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। লেক এলাকায় লাইব্রেরি, শরীরচর্চা ও জনবান্ধব বিনোদন সুবিধা গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না। তবে যারা গণহত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ গুরুতর অপরাধে জড়িত, তাদের বিচার প্রচলিত আইনের আওতায় হবে। বিএনপি বিচারবহির্ভূত হত্যার নীতিগত বিরোধী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রবি বলেন, তরুণদের শক্তি ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই রাষ্ট্রব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব। তরুণদের সাহসী আন্দোলনের ফলেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে এবং এখন তারা একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়।
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, এই হত্যার বিচার হতেই হবে। এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়, বরং প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধের অপচেষ্টা।
তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি তরুণদের জন্য উন্মুক্ত। তবে শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রস্তুতি নিয়ে রাজনীতিতে আসলে দেশ ও জাতি বেশি উপকৃত হবে।
মাদক সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা জরুরি। মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, বরং চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, গত দুই মাসে পাঁচ শতাধিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সেবাখাতের দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অতিরিক্ত জনচাপ ধানমন্ডি এলাকার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ধাপে ধাপে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই জবাবদিহিমূলক সরকার ও কার্যকর পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে পারলে নতুন বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সময়ের আলো/জেডআই