বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় (লাল বৃত্তে) আখতার হোসেন। (ডানে) গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর তোলা ছবি, সংগৃহীতচট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় এক চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অর্ধশতাধিক মামলার আসামিকে প্রকাশ্য অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। এতে ওই এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জুমার পর উপজেলার ১ নং বৈরাগ ইউনিয়নের বন্দর সেন্টার এলাকায় বিএনপির প্রার্থীর ছেলে সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনির নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলে ওই সন্ত্রাসীকে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রচারণায় অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তির নাম আখতার হোসেন (৪০)। তিনি আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ আখতারকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর আগেও তিনি কোটি টাকার বিদেশি মদসহ একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।
সন্ত্রাসীর ‘প্রটোকলে’ প্রচারণায় ক্ষুব্ধ বিএনপি
সন্ত্রাসী আখতারের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেই চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরওয়ার জামাল নিজামের অনুসারী এক প্রভাবশালী নেতা জানান, দলের কিছু সুবিধাভোগী ও হাইব্রিড নেতার প্রশ্রয়ে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিএনপির সামনের সারিতে জায়গা করে নিচ্ছে। এতে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আন্দোলনকে অপমান করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধীদের প্রশ্রয় দিলে এলাকায় আবারও মাদক ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম হবে।
কে এই আখতার হোসেন?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, আখতার হোসেন চট্টগ্রাম জেলার শীর্ষ অপরাধীদের তালিকার ৪২ নম্বরে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানায় ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।
তিনি আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মরিয়ম বেগম বদনীর ছেলে।
উল্লেখ্য, তার মা মরিয়ম বেগম নিজেও ২০০৪ সালের আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাদের মতে, সন্ত্রাসীরা যদি রাজনীতির মঞ্চ দখল করে নেয়, তবে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর আলম জানান, তিনি (আখতার) প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন কি না তা আমার জানা নেই। তবে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
অন্যদিকে, বৈরাগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরিদ উদ্দীন প্রচারণায় অনেক সিনিয়র নেতার উপস্থিতির কথা স্বীকার করেন। তবে কোনো সন্ত্রাসীর থাকার বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন ফরিদ উদ্দীন।
এসব বিষয় কথা বলতে বিএনপি প্রার্থীর ছেলে সাহওয়াজ জামাল নিজাম সনিকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এফআর