ঢাকার ধামরাইয়ে সুদের টাকার চাপ সইতে না পেরে সুমন রাজবংশী অপু (৩৬) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
আত্মহত্যার আগে চার পৃষ্ঠার একটি মর্মস্পর্শী চিরকুট লিখে গেছেন অপু। যেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তিকে সরাসরি দায়ী করেছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাইশাকান্দা গ্রামের মাঝি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত অপু ওই গ্রামের মৃত আনন্দ রাজবংশীর ছেলে।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের সময় অপুর কাছ থেকে চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট পাওয়া যায়।
সেখানে অপু লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র জাহাঙ্গীর দায়ী। ও আমাকে টাকার লোভ দেখিয়ে সুদের ওপর সুদ ধরে আমার ধান ক্ষেত ও রাস্তার জমি লিখে নিয়েছে। কোনো সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া এখন আমার বাড়িও লিখে নিতে চায়। আমার বাড়ির দলিল ও আইডি কার্ড জব্দ করেছে।’
পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, ‘ফুলমালা (স্ত্রী), আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম। তোমাকে অনেক মারধর করেছি, মাফ করে দিও। আমার ছেলে-মেয়েকে দেখো। অর্পণ, পাপড়ি তোমরা ভালোমতো লেখাপড়া করিও, মায়ের কথা শুনিও।’
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, জীবিকার তাগিদে জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন অপু। কিন্তু সুদের টাকা শোধ করতে গিয়ে প্রথমে অটোরিকশা এবং পরে নিজের জমিও বিক্রি করতে হয় তাকে। এরপরও দেনা শোধ না হওয়ায় জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগী শাহীন অপুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এমনকি তার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বাড়ির দলিলও তারা কেড়ে নেয়।
অপুর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘সকালে উঠে দেখি পোলা ঝুইলা রইছে। জাহাঙ্গীর আর শাহীন সুদের টাকার জন্য চাপ দিয়া আমার পোলার জীবনটা শেষ কইরা দিল। ওরা আইডি কার্ড আর দলিলও নিয়া গেছে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পেয়ে মরদেহ এবং সঙ্গে থাকা কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফআর