যুদ্ধের আশঙ্কায় মেট্রো স্টেশন ও পার্কিং লটকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা এবং

2026-02-01T10:58:40+00:00
2026-02-01T11:19:38+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের আশঙ্কায় মেট্রো স্টেশন ও পার্কিং লটকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম  আপডেট: ০১.০২.২০২৬ ১১:১৯ এএম
২০২৫ সালের জুনে ইরান‑ইসরায়েল সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরান সরকার বলেছে, দেশটির ওপর যদি কোনো হামলা হয়, তাদের প্রতিক্রিয়া কঠোর এবং শক্তিশালী হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি গণমাধ্যমকে জানান, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি শহরের বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর বিস্তৃত জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপে দেখা গেছে, শহরের স্কুল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা ৫১৮টি পুরনো আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই বর্তমানে সংস্কারযোগ্য। 

নাসিরি জানান, রাজধানীর ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানে পর্যাপ্ত বিশ্রামের স্থান, পানি ও খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য জরুরি বসবাসযোগ্য সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া এই স্টেশনগুলোতে শীঘ্রই আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড এবং লেবেল স্থাপন করা হবে। 

মেট্রো স্টেশনের বাইরে আরও ৩০০টিরও বেশি পার্কিং এলাকা ও পাবলিক কমপ্লেক্সকে সম্ভাব্য জরুরি আশ্রয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে সক্ষম হবে।

তেহরানের সাধারণ জনসংখ্যা প্রায় ১০–১২ মিলিয়ন, এবং বৃহত্তর মহানগর এলাকাসহ এটি ১৫–১৬ মিলিয়নের মধ্যে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের সময়, তেহরানের বাসিন্দারা প্রথমবারের মতো নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সংঘাতের পর থেকেই ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা এবং অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ইরান সরকার সতর্ক করে বলেছে যে, দেশটির ওপর যেকোনও হামলার প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কঠোর। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরানের এই প্রস্তুতি শুধু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত শহরের নাগরিকদের মানসিক প্রস্তুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামরিক হামলা দুটোর জন্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অংশ। পাশাপাশি, এটি ইরানের দূরদর্শী সামরিক ও বেসামরিক সুরক্ষা নীতিকেও প্রতিফলিত করছে।

/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধ  যুক্তরাষ্ট্র  আশ্রয়কেন্দ্র  মেট্রো স্টেশন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: