জানুয়ারি মাসে দেশের বাজারে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ১৪ বার। যার মধ্যে ১০ বারই বেড়েছে রুপার দাম। আর ৪ বার কমানো হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। এই মাসে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম বেড়েছে ১ হাজার ২২৫ টাকা। সবশেষ গত ৩১ জানুয়ারি দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দাম। সেদিন এই ধাতুর দাম ভরিতে ৪৬৭ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়ছে ২ লাখ ৭ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।
জানুয়ারির বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসটি শুরু হয়েছিল দাম কমার মধ্য দিয়ে। তবে এরপর ৫ জানুয়ারি বাড়ানো হয় রুপার দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি দাম কমিয়ে এই ধাতুর দাম নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। তবে, এরপরই রুপার বাজারে দেখা দেয় টানা উত্থান। ১২, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৪ দফা বাড়ানো হয় দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে ঠেকে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। এর মধ্যে ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি দাম বেড়ে প্রতিবারই দেশে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। তারপর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ফের ২৫, ২৬ ও ২৯ জানুয়ারি টানা বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। প্রতিবারই তৈরি হয় নতুন রেকর্ড।
গত ২৯ জানুয়ারি ৮১৬ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা। তবে, এরপরই ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে রুপার দামের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের কারণেই বারবার দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সময়ের আলো/এনএ