২০২৫ সালের ১৮ মে- একটি স্বাভাবিক দিনের শুরু হলেও নুসরাত ফারিয়ার জীবনে সেটিই হয়ে ওঠে বড় মোড় নেওয়ার দিন। গানের ভিডিওর শুটিংয়ের কাজে থাইল্যান্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছান অভিনেত্রী। কিন্তু ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পরদিন, ১৯ মে জামিন নামঞ্জুর হলে ফারিয়াকে পাঠানো হয় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। ২০ মে জামিনে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী, যদিও ধীরে ধীরে সেই ধাক্কা সামলে ওঠেন।
এত দিন এই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কিছু না বললেও সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি পডকাস্টে প্রথমবারের মতো বিস্তারিতভাবে মুখ খুললেন ফারিয়া।
তিনি জানান, মামলার বিষয়টি প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি কানাডায় ছিলেন। তার ভাষায়, ‘আমি জানতাম আমার নামে একটি মামলা হয়েছে, কিন্তু যেহেতু তখন দেশে ছিলাম না, তাই বিষয়টা সিরিয়াস মনে হয়নি। সেদিন তো আমি গানের শুটিংয়ে যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশন শেষ করে লাউঞ্জে বসে আলু ভাজি আর রুটি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ সবকিছু বদলে গেল।’
ফারিয়া বলেন, আটকের পরপরই তিনি তার মা ও শিক্ষককে ফোন করেন। অনেক প্রশ্ন করা হলেও একপর্যায়ে সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তবে ততক্ষণে আইনি প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে গেছে। পরদিন আদালতে এজলাসে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে অচেনা মুহূর্তগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
জেলে কাটানো সময়ের স্মৃতিও উঠে আসে তার কথায়। ফারিয়ার ভাষ্য, কারাগারের ভেতরে তিনি যে মানবিকতা ও সহানুভূতি পেয়েছেন, তা কল্পনাও করেননি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা তিনি কিছুই খেতে পারেননি। সে সময় অপরিচিত মানুষরা নিজের হাতে তাকে ভাত, রুটি আর সবজি খাইয়ে দিয়েছেন। ‘আমি কাঁদছিলাম, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল। তাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখাও হবে না,’-বলেছেন অভিনেত্রী।
এই অভিজ্ঞতা তার জীবনদর্শন বদলে দিয়েছে বলেও জানান ফারিয়া। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে হতাশার কথাও অকপটে বলেন তিনি। জেলে যাওয়ার সময় তিনি একজনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু মুক্তির পর সেই মানুষটির সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ‘জেল থেকে বের হওয়ার পর তার আর চেহারাও দেখিনি,’-বললেন ফারিয়া।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় মানুষের আসল রূপ চিনতে পেরেছেন। অনেক কাছের বন্ধু সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তার সঙ্গে তোলা ছবি মুছে ফেলেছেন। বিপদের সময় অনেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এই কঠিন সময়েই তিনি বুঝেছেন, কারা সত্যিকার অর্থে তার পাশে আছেন।
গ্রেফতারের পর শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে যারা প্রকাশ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নুসরাত ফারিয়া। একই সঙ্গে জানান, মামলাটি এখনো চলমান। প্রতি মাসে তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এই ঘটনার পর অনেকেই তার সঙ্গে কাজ করতে দ্বিধায় থাকছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এএডি/