অল্প যত্নেই ঝকঝকে গৃহকোণ

জীবন যখন যেমন ডেস্ক

সারাদিনের ব্যস্ততা আর ক্লান্তির পর যে জায়গাটিতে ফিরে আমরা স্বস্তি খুঁজি, সেটি আমাদের নিজের ঘর। তাই ঘর শুধু থাকার জায়গা

2026-02-03T05:47:45+00:00
2026-02-03T05:47:45+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
অল্প যত্নেই ঝকঝকে গৃহকোণ
জীবন যখন যেমন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সারাদিনের ব্যস্ততা আর ক্লান্তির পর যে জায়গাটিতে ফিরে আমরা স্বস্তি খুঁজি, সেটি আমাদের নিজের ঘর। তাই ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, মানসিক শান্তিরও ঠিকানা। এই শান্তির পরিবেশ ধরে রাখতে ঘর ঝকঝকে রাখা জরুরি। তবে এর জন্য সারাক্ষণ পরিষ্কার করার পেছনে সময় দিতে হবে, এমনটা নয়। কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

ঘর পরিষ্কারের প্রথম ধাপ হওয়া উচিত একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। একটি সহজ ক্লিনিং ক্যালেন্ডার বানিয়ে নিন। সেখানে সাপ্তাহিক, মাসিক এবং বাৎসরিক কোন জিনিস কখন পরিষ্কার হবে, তা লিখে রাখুন। যেমন- শীতের শেষে সিলিং ফ্যান পরিষ্কার করা দরকার, বর্ষার আগে আলমারি বা স্টোররুম দেখা দরকার। ক্যালেন্ডার থাকলে কিছুই আর ভুলে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

পরিষ্কার করার সময় ওপর থেকে নিচে নামুন। দেওয়াল বা সিলিং আগে পরিষ্কার করলে ধুলা নিচে পড়বে। শেষে মেঝে মুছলেই পুরো কাজ শেষ। এতে সময় বাঁচে, একই জায়গা বারবার পরিষ্কার করার ঝামেলাও থাকে না।

বাইরের নোংরা যাতে ঘরে ঢুকতে না পারে, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বাড়িতে ঢোকার মুখেই জুতো রাখার জায়গা রাখুন। সম্ভব হলে ঘরের বাইরে, না হলে অন্তত দরজার পাশেই। একটি বড় পাপোশ রাখলে বাইরের ধুলা অনেকটাই আটকে যায়।

বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত জায়গা হলো বাথরুম। সপ্তাহে অন্তত একবার শাওয়ার, কমোড, বেসিন আর টাইলস ভালো করে পরিষ্কার করুন। নিয়মিত করলে ময়লা জমে শক্ত হয়ে যায় না। দেরি করলে কাজ অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।

পরিচ্ছন্নতার আরেকটি বড় কৌশল হলো ধুলা কমানো। দরজা-জানালা প্রয়োজন ছাড়া খোলা না রাখা, হেপা ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা, প্রয়োজনে এয়ার পিউরিফায়ার রাখা কাজে দেয়। যাদের পোষা প্রাণী আছে, তাদের নিয়মিত ব্রাশ করানো ও গোসল করানোও জরুরি। এয়ার ফিল্টার থাকলে সময়মতো বদলাতে ভুলবেন না। একটি কাজ শুরু করলে সেটি শেষ করেই উঠুন। মাঝপথে রেখে দিলে আবার নতুন করে শুরু করতে হয়, আগ্রহও কমে যায়। 

এবার আসা যাক সেই জায়গাগুলোর কথায়, যেগুলো আমরা প্রায়ই পরিষ্কার করতে ভুলে যাই। দরজার ফ্রেম, ক্যাবিনেটের ওপরের অংশে ধুলা জমে থাকে। এতে অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে। এসব জায়গায় মাসে কয়েক দিন মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছলেই যথেষ্ট।

ফ্রিজ, ওয়াশিংমেশিন বা আলমারির নিচের অংশেও ধুলা জমে থাকে সবচেয়ে বেশি। ভারী জিনিস বলে নিয়মিত সরানো সম্ভব নয় কিন্তু মাঝেমধ্যে পরিষ্কার করা জরুরি। সোফা বা চেয়ারের ওপর পাতা গদি অনেক সময় ভুলে যাই পরিষ্কার করতে। অথচ এখানেই ব্যাকটেরিয়া আর পোকামাকড় বাসা বাঁধে। 

ভেন্টিলেটর, সিলিং ফ্যান, মাউন্টেড টিভির পেছনের অংশও অবহেলার তালিকায় পড়ে। মাসে একবার পাখা এবং তিন মাসে একবার ভেন্টিলেটর পরিষ্কার করলে অ্যালার্জির ঝুঁকি কমে। টিভির পেছনে জমা ধুলা থেকেও রোগ ছড়াতে পারে, তাই সেটিও নজরে রাখুন।

টয়লেট পরিষ্কার হলেও বেসিনের নিচে কিংবা কমোডের বাইরের অংশ অনেক সময় বাদ পড়ে যায়। চোখে না পড়লেও এখানেই জীবাণু বেশি থাকে। সময়মতো পরিষ্কার করলে নানা সংক্রমণ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

অল্প কিছু অভ্যাস আর নিয়মিত যত্নেই ঘর হয়ে উঠতে পারে ঝকঝকে, স্বাস্থ্যকর এবং সত্যিকারের সুখের আশ্রয়।


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: