শবে বরাত মানেই অনেক ঘরেই হালুয়া বা বিশেষ কোনো মিষ্টান্ন। তবে অতিরিক্ত চিনি, তেল বা ঘি দিয়ে তৈরি খাবার অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
উচ্চ রক্তচাপ, ওজন সমস্যা বা হজমের জটিলতা যাদের আছে, তাদের জন্য এই রাতটা দুশ্চিন্তারও হতে পারে। একটু সচেতন হলে কিন্তু স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রাখা সম্ভব।
প্রথমেই আসা যাক হালুয়ার কথায়। প্রচলিত সুজি বা আটা হালুয়াতে সাধারণত পরিমাণের তুলনায় বেশি চিনি ও ঘি ব্যবহার করা হয়। অথচ স্বাদ নষ্ট না করেই চিনি কমানো যায়। এ ক্ষেত্রে সাদা চিনির বদলে খেজুরের গুড়, আখের গুড় বা অল্প পরিমাণ মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো স্বাদে পরিবর্তন আনে এবং পরিমাণও কম লাগে। পুরোটা গুড় দিয়ে না করে অর্ধেক চিনি, অর্ধেক গুড়ের মিশ্রণেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
ঘিয়ের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য হালুয়া ভাজার সময় ধৈর্য দরকার। খুব বেশি ঘি না দিয়ে ধীরে ধীরে নেড়ে নিলে ভালো গন্ধও রং আসে। চাইলে সামান্য অলিভ অয়েল বা রাইস ব্রান অয়েলের সঙ্গে অল্প ঘি মিশিয়েও রান্না করা যায়। এতে স্বাদ বজায় থাকে, চর্বির মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
উপাদানের দিক থেকেও কিছু বদল আনা যায়। সাদা সুজির বদলে লাল আটা, ওটস বা বার্লি ব্যবহার করলে হালুয়া আরও পুষ্টিকর হয়। ওটস হালুয়া এখন অনেক পরিবারেই জনপ্রিয় হচ্ছে, কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না। বাদাম, কাজু, কিশমিশ যোগ করলে প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টতা বাড়ে, অতিরিক্ত চিনি দরকার হয় না।
হালুয়ার পাশাপাশি অনেক ঘরে পোলাও, মাংস বা বিশেষ ভাজাপোড়া রান্না হয়। এখানেও পরিমিতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে বেকড বা হালকা সেদ্ধ পদ্ধতি বেছে নেওয়া যেতে পারে। মাংস রান্নার সময় তেল ছাড়াও মসলা থেকে নিজস্ব তেল বের হয়, সেটি মাথায় রেখে বাড়তি তেল কম দেওয়া ভালো। সবজির উপস্থিতি খাবারের প্লেটে বাড়ালে ভারসাম্য তৈরি হয়।
খাবার মানেই বড় প্লেট ভরে খাওয়া নয়। অল্প পরিমাণে, ধীরে খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বস্তি দেয়। তাই ছোট বাটিতে অল্প হালুয়া, সঙ্গে পানি বা হালকা গরম দুধ যথেষ্ট। শবে বরাতের খাবার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য তৃপ্তি ও ভাগাভাগি। সেখানে অসুস্থতা ডেকে আনা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সামান্য সচেতনতা, উপাদানের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার আর পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস স্বাদ ও স্বাস্থ্য সুন্দর করে তুলতে পারে।