ঝালকাঠিতে বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন, জমি তৈরি এবং রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। চলতি বোরো মৌসুমে ১৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজ আবাদ করা হচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমি রয়েছে যেখানে শুধুমাত্র বোরো আবাদ হয়ে থাকে। বছরের অন্য সময় জলাবদ্ধ থাকার কারণে এসব জমিতে অন্য কোনো ফসল হয় না।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ঝালকাঠি জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমির চাষাবাদ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ১৪ হেক্টর জমিতে।
এর মধ্যে হাইব্রিড ২৫৫০ ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ১১ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে হাইব্রীড ১১৫ ও উফশী ৭৭১ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বোরো আবাদ আরো বেশি জমিতে হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা কৃষি অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষকদের অভিযোগ বীজ, সার এবং কীটনাশকের মূল্য বেশি হওয়ায় শুরুতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এরপরে ধান খেতে পাম্পের সাহায্যে সেচ দেওয়ায় ডিজেলের মূল্য বেশি থাকায় কৃষকের তেমন লাভ থাকে না। কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।
এরপরে বাজারেও ধানের মূল্য ভালো না থাকায় বোরো আবাদে আগ্রহের কমতি নেই কৃষকদের। সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের কুনিহারি গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘বোরো ধান লাগাতে আমরা এখন ব্যস্ত। জমি তৈরি ও ধান লাগাতে কাজ করতেছি। তবে ধানের বীজের দাম এবার বেড়ে গেছে।
গত বছর যে বীজ ধানের কেজি ছিল ৫০০ টাকা সেই বীজ ধান এ বছর আমাদের কিনতে হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।’
একই এলাকার কৃষক ফারুক মাঝি বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সাহায্য পাই না। সাহায্য পেলে আমাদের উপকার হতো।’
সদর উপজেলার সাবাঙ্গল এলাকার কৃষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঝালকাঠি বিএডিসি (বীজ বিপণন ও বিতরণ) অফিসে বোরো বীজ আনতে গেলে তারা কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে, আমার কথা না শুনে ভালো বীজ আছে বলে ফরিদপুর থেকে আনা ১০ কেজির ১২টি প্যাকেট ৬হাজার টাকা দাম রাখে। বীজতলায় আবাদ করার পর ৬ প্যাকেট বীজও ফোটায়নি (অঙ্কুরোদগম করেনি)। পরে অন্য বীজ তলা থেকে উচ্চ দামে বীজ কিনে এনে রোপণ করতে হচ্ছে। এতে খরচ অনেক বেশি পড়ে গেছে।
বাকি খরচের দিনতো আরো সামনে আছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ বছর কৃষকদের মধ্যে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তাতে বিগত ১০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হবে। আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ দিচ্ছি। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিটি ব্লকে গিয়ে কৃষকদের খোঁজ-খবর নিচ্ছে।
সময়ের আলো/এআর