এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ঝুঁকিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না। তবু এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রভাব ও প্রকাশিত নথির কারণে তার

2026-02-05T13:20:02+00:00
2026-02-05T13:20:02+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ঝুঁকিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২০ পিএম 
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সংগৃহীত ছবি
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না। তবু এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রভাব ও প্রকাশিত নথির কারণে তার রাজনৈতিক অবস্থান বিপদের মুখে পড়েছে। ব্রিটেনে এপস্টেইন নথি প্রকাশের পর জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যা স্টারমারের নেতৃত্বকে দুর্বল করে তুলেছে। লেবার পার্টির ভেতরে বিদ্রোহী এমপিদের চাপ এবং সংসদে তার বিব্রতকর উপস্থিতি তাকে কার্যত ক্ষমতায় অস্থিতিশীল অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রভাব অন্যভাবে দেখা যায়। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরা বিচার প্রক্রিয়ার দাবি জানাচ্ছেন, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এবং রিপাবলিকান কংগ্রেসের শক্ত অবস্থানের কারণে বিচার বিভাগে কার্যকর নজরদারি প্রায় অসম্ভব। ফলে মার্কিন রাজনীতিতে এপস্টেইনের বিষয়টি স্টারমারের মতো গভীর রাজনৈতিক ধাক্কা সৃষ্টি করেনি। তবে এপস্টেইনের নথি নরওয়ে ও পোল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে যাওয়ায় দেখা যায়, কেলেঙ্কারির প্রভাব বৈশ্বিক এবং অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে। 

ব্রিটেনে জনরোষ এত তীব্র যে রাজা তৃতীয় চার্লস সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে, যিনি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, রাজকীয় উপাধি থেকে বঞ্চিত করেছেন এবং উইন্ডসর ক্যাসেল প্রাসাদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যায়নি। সেখানে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কেউ তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হননি। 

সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন সাবেক মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামার্স। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সামার্সের ইমেইল প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে তিনি নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন এবং এপস্টেইনের কাছে প্রেমসংক্রান্ত পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি জনসম্মুখ থেকে সরে দাঁড়ান এবং এ ঘটনার জন্য গভীরভাবে লজ্জিত বলে জানান। ট্রাম্প এই বিতর্ক পেছনে সরিয়ে দিতে মরিয়া, বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নতুন কোনো মামলা হবে না এবং ট্রাম্প বা নথিতে উল্লেখিত অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।


স্টারমারের বিপদ মূলত সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের কারণে। স্টারমার জানতেন ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের বন্ধু, তবু তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। নতুনভাবে প্রকাশিত নথিতে ইঙ্গিত মিলেছে যে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় ম্যান্ডেলসন হয়তো গোপনভাবে এপস্টেইনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান করেছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চলছে এবং তিনি হাউস অব লর্ডস ও লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

স্টারমার সংসদে বলেন, ম্যান্ডেলসন দেশের, সংসদের এবং দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ম্যান্ডেলসনও ক্ষমা চেয়েছেন এবং লেবার পার্টি ত্যাগ করেছেন। তবে এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা শুধু ব্যক্তিগত বা আইনগত নয়, এটি ব্রিটিশ রাজনীতি, গণমাধ্যম ও জনমতের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে।

ফলস্বরূপ, দুই বছরেরও কম সময়ে ক্ষমতায় থাকা স্টারমারের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে এবং সংসদে তার উপস্থিতি তাকে দুর্বল নেতার প্রতীক হিসেবে দেখিয়েছে। ব্রিটিশ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার প্রতীক হওয়া দেশটি এখন রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে, গত ১১ বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী বদল হয়েছে।

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি শুধু এক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কেলেঙ্কারি, যা প্রভাবশালী, ধনী ও খ্যাতিমান ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। স্টারমারের দেউলিয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ম্যান্ডেলসনের পতন এই কেলেঙ্কারির প্রভাবের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার  এপস্টেইন কেলেঙ্কারি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: