চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা-আধাঁরমানিক সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে গেছে কার্পেটিং। সংস্কারের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় সড়কের এই বেহাল দশা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নাওঘাটা-আধাঁরমানিক সড়কের ডেলিয়া পাড়া এলাকার প্রায় ১০০ মিটার অংশ সংস্কারের জন্য স্থানীয় আবদুস সালাম মাঝিকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে দায়িত্ব দেয় মূল ঠিকাদার পক্ষ। গত বুধবার সংস্কারকাজ শেষ করেন তিনি।
তবে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার সকালেই দেখা যায়, হাতের ছোঁয়ায় উঠে আসছে রাস্তার কার্পেটিং। নিম্নমানের এই কাজের ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাস্তার ধুলোবালি ও মাটি পরিষ্কার না করেই তার ওপর নামমাত্র বিটুমিন ও ইটভাটার রাবিশ (নিম্নমানের ইটের গুঁড়ো) দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। কোনো প্রকার কংক্রিট ব্যবহার করা হয়নি। ফলে গাড়ি চলা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ হাঁটলেও কার্পেটিং আলগা হয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা এবং টেকসইভাবে সড়কটি পুনরায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পদুয়াবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২ বছর আগে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাওঘাটা-আধাঁরমানিক সড়কটির কাজ প্রয়াত ঠিকাদার দিপু কান্তি পাল সম্পন্ন করেন। কিছুদিন পূর্বে সড়কের বেশকিছু জায়গায় কার্পেটিং উঠে যায়। ফলে স্থানীয় আবদুস সালাম মাঝিকে এ সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজ তদারককারী আবদুস সালাম মাঝি অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে বলেন, কার্পেটিং এখনও শুকায়নি, তাই উঠে যাচ্ছে। সামনে নির্বাচন, তাই আপাতত কোনোমতে কাজটা করা হয়েছে। পরে আরও ভালো করে করে দেব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসের (এলজিডি) সার্ভেয়ার মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, আমাদের না জানিয়ে ঠিকাদার নিজ উদ্যোগেই কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ফলে কাজের মান ও নিয়ম মানা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এফআর