এক সময় পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় আলোচিত ওরা ১১ জনের একজন ছিলেন এম এ জামান। অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সোনারগাঁও পৌর সভাপতির পদে থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেন তিনি। পরে দলের সংকটে বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।
সর্বশেষ রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। এখন আবারও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন তিনি। এ নিয়ে সোনারগাঁও উপজেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সোনারগাঁও পৌরসভা নোয়াইল গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে এম এ জামান। তিনি সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. রেজাউল করিমের আস্থাভাজন ছিলেন। সে সুবাদে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণসহ রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেন।
সে সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘ওরা এগারো জন’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ ব্যাপক আলোচিত হয়। সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ছিলেন এই এম এ জামান। পরবর্তীতে বিএনপি রাজনৈতিক সংকটে পড়লে পদত্যাগ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। তৎকালীন জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার হাত ধরে পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতির পদ ভাগিয়ে নেন।
দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পাটির লিয়াকত হোসেন খোকা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সুবিধা পান এম এ জামান। দ্বাদশ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সংকটে পড়লে এম এ জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের রাজত্ব বহাল রাখেন।
সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাতিজির সাথে এম এ জামানের ভাতিজার বিয়ের সুবাদে স্থানীয় নেতাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন। জুলাই আন্দোলনের পর তিনি জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এম এ জামান। সম্প্রতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের ঢাকার বাসভবনে উপস্থিত হয়ে আবারো বিএনপিতে যোগদান করেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর বিএনপির এক নেতা জানান, এম এ জামান ক্ষমতার সাথে রাজনীতি করতে পছন্দ করেন। সে তার সমর্থিত সুবিধাবাদী কর্মীদের নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার নামে ত্যাগী নেতাদের পেছনে ঠেলে দিচ্ছেন। এ নিয়ে পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় পার্টির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এম এ জামান বিগত দশ বছর জাতীয় পার্টি থেকে সুবিধা ভোগ করেছেন। রাজনৈতিক সংকট দেখে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবারো বিএনপির হয়ে কাজ করছেন। এটা দুঃখজনক।
জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা জানান, এম এ জামানকে বিশ্বাস করে, পরিবারের সদস্য মনে করে জাতীয় পার্টি কমিটিতে পদ দিয়েছিলাম। সব সময় একটি দল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে না। সংকট আসবেই, এ জন্য দল ত্যাগ করা সমীচীন নয়।
সময়ের আলো/আআ