জাফর ইকবাল ও টেলি সামাদ : এক দিনে ফিরে দেখা দুই কিংবদন্তি

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বাংলা সিনেমার কিছু মানুষ আছেন, যাদের কথা এলেই মনে পড়ে একটা সময়, একটা আবহ, একটা আলাদা অনুভূতি। আজ তেমনই এক

2026-02-08T10:59:02+00:00
2026-02-08T10:59:02+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ফিচার
জাফর ইকবাল ও টেলি সামাদ : এক দিনে ফিরে দেখা দুই কিংবদন্তি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম 
জাফর ইকবাল ও টেলি সামাদ। ছবি : সময়ের আলো
বাংলা সিনেমার কিছু মানুষ আছেন, যাদের কথা এলেই মনে পড়ে একটা সময়, একটা আবহ, একটা আলাদা অনুভূতি। আজ তেমনই এক দিন। আজ নায়ক জাফর ইকবালের প্রয়াণ দিবস, আবার আজই জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদের জন্মদিন। দুজন দু’ধরনের শিল্পী হলেও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাদের জায়গা খুব অভিন্ন, খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নায়ক হয়েও ছিলেন সাধারণের কাতারে 

একটা সময় ছিল, যখন বাংলা সিনেমার নায়ক মানে শুধু মারধর বা বড় বড় সংলাপ নয়। যাকে দেখে দর্শকের মনে হতো—এই মানুষটা আমাদেরই একজন। সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন জাফর ইকবাল। 

জাফর ইকবালের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল স্বাভাবিকতা। তিনি কখনো অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না। চোখের দৃষ্টি, কথা বলার ভঙ্গি, নীরব থাকা—এই সবকিছু দিয়েই তিনি চরিত্রকে বোঝাতে পারতেন। ‘নয়নের আলো’ সিনেমায় তার অভিনয় আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে। সেখানে তিনি কম কথা বলেও অনেক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

তিনি শুধু নায়ক ছিলেন না, ছিলেন সময়ের ফ্যাশন আইকনও। লম্বা চুল, সাদা শার্ট, ডেনিম জ্যাকেট, সানগ্লাস—এই স্টাইল তখনকার তরুণদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল। অনেকেই সিনেমা দেখে তার মতো করে চুল কাটত, পোশাক পরত।

গানের ক্ষেত্রেও জাফর ইকবাল আলাদা ছিলেন। তার কণ্ঠ ছিল শান্ত, আবেগপূর্ণ। ‘যেভাবেই বাঁচি, বেঁচে তো আছি’ কিংবা ‘সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী’—এই গানগুলো শুধু গান নয়, জীবনের কথাও বলে। তার গলায় এসব গান আরও গভীর হয়ে উঠেছে।

জাফর ইকবাল ছিলেন এমন একজন নায়ক, যিনি শক্তির চেয়ে অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই আজও তার অভিনয় আর গান মানুষ মনে রাখে।

হাসির আড়ালে অনেক গুণ

টেলি সামাদকে আমরা সবাই চিনি কৌতুক অভিনেতা হিসেবে। তিনি মানুষকে হাসাতে পারতেন খুব সহজে। কিন্তু তিনি শুধু কমেডিয়ান ছিলেন না—তিনি ছিলেন একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী।

১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি বিক্রমপুরে জন্ম টেলি সামাদের। অভিনয় শুরু করেছিলেন সাদাকালো সিনেমার যুগে। ‘মনা পাগলা’ সিনেমায় নামভূমিকায় অভিনয় করে তিনি সবার নজর কাড়েন। এই ছবিতে তার অভিনয় ছিল খুব শক্তিশালী।

তিনি অনেক সিনেমায় নায়ক হিসেবেও অভিনয় করেছেন। ‘দিলদার আলী’ সিনেমায় তিনি শুধু নায়কই নন, প্রযোজকও ছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং পঞ্চাশটির বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন। এমনকি কিছু সিনেমার সংগীত পরিচালনাও করেছেন।

বিটিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চাচা-ভাতিজা’-তে ভাতিজার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। অভিনয়ের পাশাপাশি অবসরে ছবি আঁকতেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে পড়াশোনা করেছিলেন টেলি সামাদ।

এত বড় অভিনয়জীবন থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি। তবে দর্শকের ভালোবাসাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আজকের দিনটা তাই বাংলা সিনেমার জন্য একটু আলাদা। একদিকে আমরা হারানো এক নায়ককে স্মরণ করছি, অন্যদিকে জন্মদিনে একজন শিল্পীর কথা মনে করছি।

জাফর ইকবাল ছিলেন নীরব, সংযত, অনুভূতিপ্রবণ নায়ক। টেলি সামাদ ছিলেন প্রাণবন্ত, বহুমুখী, হাসির আড়ালে গভীর অভিনেতা। দুজনেই তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে বাংলা সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

সময় বদলেছে, সিনেমার ধরণ বদলেছে। কিন্তু এই দুই শিল্পীর কাজ আজও মানুষের মনে রয়ে গেছে। কারণ তারা শুধু পর্দার মানুষ ছিলেন না—তারা দর্শকের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠেছিলেন।


/ইউএমএইচ 


  বিষয়:   জাফর ইকবাল  টেলি সামাদ 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: