কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ‘ভুয়া প্রার্থী’ নিয়ে তোলপাড় চলছে। দুদু জোদ্দার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে এমপি প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা। এর আগে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একই কাণ্ড ঘটান।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও কুড়িগ্রাম -৪ আসনে কুলা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা করছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল।
দুদু জোদ্দার উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল নতুন আশ্রয়ণ কেন্দ্র এলাকার ধনীয়া জোদ্দারের ছেলে। প্রতিবার নির্বাচন এলেই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে কিছু পোস্টার সাঁটান।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু সে তালিকায় দুদু জোদ্দারের নাম নেই।
দুদু জোদ্দার নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করে ‘কুলা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে পোস্টারিং ও প্রচার চালাচ্ছেন। এতে ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দুদু জোদ্দার বলেন, ‘আমি মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছি, কাজেই আমি বৈধ প্রার্থী।’
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুদু জোদ্দারের মাথার সমস্যা আছে। ভোট আসলেই পোস্টার ছাপিয়ে প্রচারণা করে। তাকে সবাই দুদু পাগলা নামে চেনে। পাগল ভেবে কেউ কিছু বলে না।
তিনি আরও বলেন, পোস্টার ছাড়া আর কোনো প্রচারণা আছে বলে আমার জানা নেই। গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভুয়া প্রার্থী হওয়ায় জেলে পাঠায় প্রশাসন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। জেল থেকে বের হয়ে পরবর্তী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও একই কাণ্ড করে বসেন। পরিবার পরিজন ছাড়াই তার ভবঘুরে জীবন। দুই ছেলে ঢাকায় থাকে। তার স্ত্রীও সঙ্গে থাকেন না। বর্তমানে আমার ইউনিয়নে সরকারি আবাসনে তার ঠিকানা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ