লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রোববার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহবান জানিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই দল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রায়পুর পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও জামায়াতের উদ্যোগে এ যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, রোববার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজারে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের দুই কর্মী শাকিল ও এমরান আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকেও তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পরপরই উভয় দল পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং ভবিষ্যতে সহিংসতা এড়াতে দুই দলের স্থানীয় নেতারা আলোচনার মাধ্যমে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হাসেম দুলাল মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলো, কেরোয়া জামায়াতের আমীর হাফেজ দেলোয়ার, সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইউনুস, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট সুমন মনির এবং বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মৃধাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাজনীতি করতে চাই। আমরা একই ইউনিয়নের মানুষ। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো সহিংসতা নয়।
তারা আরও বলেন, নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি—কেউ যেন কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয় এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখে।
এ সময় উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার মাধ্যমে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।