ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাইবান্ধায় ১৮ দিনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ হওয়ায় জেলার পাঁচটি আসনে নেমেছে নির্বাচনি নীরবতা। প্রার্থীদের বাকযুদ্ধ শেষ, এখন অপেক্ষা ভোটযুদ্ধের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ সময় বিতর্কিত নির্বাচনি বাস্তবতার পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় উৎসাহ ও সতর্কতার মিশ্র পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে ঘিরে বেশিরভাগ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনি সমীকরণকে জটিল করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভোটারদের আচরণ ইস্যুভিত্তিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ১০১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। পাঁচটি আসনে দলীয় ৩২ জন এবং স্বতন্ত্র ৮ জনসহ মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়ায় দলগুলো নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালিয়েছে।
প্রচারণায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়ন ছিল প্রধান ইস্যু। পাশাপাশি নদীভাঙন, চরাঞ্চলের যোগাযোগ সমস্যা, কৃষি ও বাজারব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বেশি আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন আসনে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নির্বাচনি চিত্র ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ৬৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৯টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব স্থানে নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার জন্য সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন বিএনপির জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা, জামায়াতের জন্য মাঠপর্যায়ের কাজের মূল্যায়নের সুযোগ এবং জাতীয় পার্টির জন্য রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার লড়াই। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতিও অনেক আসনে ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে এখন সবার দৃষ্টি ভোটের দিনের দিকে। সেই দিনই নির্ধারণ করবে গাইবান্ধার মানুষ পরিবর্তন নাকি ধারাবাহিকতার রাজনীতি বেছে নিবে।
সময়ের আলো/ আরবিএন