গণপরিবহণ ও নদী পথে ভাড়ার নৈরাজ্য উপেক্ষা করে ভোটের টানে এবার শহর থেকে গ্রামে ছুটে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ভোট উপলক্ষে টানা ৩ দিন সরকারি বেসরকারি অফিসে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়াও শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির সুযোগ পেয়েছেন সবাই। তাই ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া পদচারণায় জৌলুস ফিরে পেয়েছে গ্রাম-গঞ্জের মাঠ-ঘাট সহ হাটবাজার।
অনেক ভোটাররা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেনি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।
ভোট দিতে যানবাহনে দ্বিগুণ ভাড়া উপেক্ষা করে পাবনার বেড়া-সুজানগর উপজেলায়ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে সড়ক ও নৌপথে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামে এসেছে। ভোট উপলক্ষে মানুষ গ্রামে মিলিত হওয়ায় এসব এলাকায় বিরাজ করছে ঈদের আমেজ।
বেড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী আমিনুল জানান, তিনি রাজধানীর গাবতলি থেকে সি-লাইন পরিবহনে ৫’শ টাকার ভাড়া ৮’শ টাকা দিয়ে এসেছে। যানজটের কারণে ৪ চার ঘণ্টার পথ ১০ ঘণ্টায় আসতে হয়েছে তার।
উপজেলার কাজিরহাট-আরিচা নৌ-রুটের ফেরিঘাটের অনেক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণপরিবহণের সংকট আর দ্বিগুণ ভাড়ার নৈরাজ্যের কারণে শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপে চড়ে গন্তব্য স্থলে পৌঁছলেও অনেক ভোটাররা এখনো ঠিকঠাক মতো পৌঁছাতে পারেনি।
রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন পরিবহনে যানজটে আটকে রয়েছে অনেকে। আবার কেউ কেউ সড়ক ও নদী পথে ভাড়ার নৈরাজ্য থেকে রেহাই পেতে এবং জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে রাজধানী ঢাকা সহ নিজেদের কর্মস্থল বিভিন্ন জায়গায় রয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
সময়ের আলো/কেএইচও