দীর্ঘ দেড় যুগের হতাশা, ক্ষোভ আর ‘রাতের ভোট’-এর কালো স্মৃতি এবং ‘আমি ডামির’ কলঙ্ক পেছনে ফেলে আজ আবার ব্যালটের দিকে তাকিয়েছে বাংলাদেশ। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’— এই সহজ অথচ শক্তিশালী প্রত্যয়ে উৎসবের আমেজে মুখর গোটা দেশ। ১৭ বছর পর মানুষ ফিরে পাচ্ছে ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে আগামী দিনের নেতৃত্ব— এমন আশায় উজ্জ্বল সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন। একই সঙ্গে কলঙ্কমুক্ত নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আস্থা ফেরাতে চায় নির্বাচন কমিশন। ইতিহাসের ভার কাঁধে নিয়ে আজ নতুন পথচলায় বাংলাদেশ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল। তবে এই নির্বাচনের বাইরে রয়েছে দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবে বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন ২৩০টি আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করেছিল। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এটি ছিল প্রথম ভোট। যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল।
আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ তিনটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয় চার আসনে। নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। বলা হয়, এটিই ছিল বাংলাদেশের বড় সব দলের অংশগ্রহণের সব শেষ গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন। সব দল এ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিল।
আরও পড়ুন
এরপর ক্ষমতায় এসে সরকার গঠনের তিন বছরের মাথায় ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরপর দলীয় সরকারের অধীনে প্রথমবারের মতো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মাত্র ১২টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোট এ নির্বাচন বর্জন করায় ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায় আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দলগুলো। ফলে ভোটগ্রহণ হয় ১৪৭টি আসনে।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই পায় ২৩৪টি আসন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ (ইনু) ৫টি, তরীকত ফেডারেশন ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২টি, বিএনএফ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টি আসনে জয়লাভ করে।
নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ নির্বাচনকে বলা হয় ‘বিনা ভোটের নির্বাচন’। রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার মুখেও চরম বিতর্কিত এ নির্বাচনের পর ক্ষমতা ধরে রাখে আওয়ামী লীগ। ফলে অন্য দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
এর পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আবারও দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’। এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। ভোট পড়েছিল ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ। কিন্তু ভোটের আগের দিন রাতেই বিভিন্ন জায়গায় ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ভরে রাখে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ফলে এ নির্বাচনকে বলা হয় ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৮টি আসনে জয় পায়। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ২২টি এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮টি আসনে জয়ী হয়।
অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ৬টি, গণফোরাম ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন। এ নির্বাচনও ছিল চরম বিতর্কিত। ফলে ভোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন ভোটাররা। অন্যদলগুলোর মধ্যে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচি বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই নানা কৌশলে সরকারে থেকে যায় আওয়ামী লীগ।
এরপরও আবার সরকারে থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ভিন্ন কৌশলে নিজেদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। এ নির্বাচনকে বলা হয় ‘আমি ডামির নির্বাচন’। এ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পায় এবং পুনরায় সরকার গঠন করে। তবে এবার আর বেশি দিন সরকারে টিকতে পারেনি দলটি।
সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারা দেশ। সারা দেশে নির্বিচারে ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যার প্রতিবাদে কোটাবিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের আন্দোলনে। দেশের সব মানুষের অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয় আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে সরকার গঠনের সাত মাসের মাথায় ৫ আগস্ট পতন হয় টানা ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের।
এরপর ওই বছরের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব নিয়ে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশ্বাস দেন তিনি। সেই সঙ্গে নতুন দেশ গঠনের জন্য সংস্কারে হাত দেন। তবে নির্বাচন নিয়ে আবারও শুরু হয় ধোঁয়াশা। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার চাপ বাড়তে থাকে। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি ধারণা দেন ড. ইউনূস। তবুও যেন সংশয় কাটছিল না দলগুলোর।
সবশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক রেখে গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করে এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন। আর এতেই স্বস্তি ফেরে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দখল, বাছাই, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচার, যা গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতাই ছিল অত্যন্ত গোছানো ও শান্তিপূর্ণ। আচরণবিধি পালন নিয়ে কঠোর অবস্থায় ছিল নির্বাচন কমিশন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভোট দিতে ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় গেছে লাখ লাখ মানুষ। ভোট শান্তিপূর্ণ করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি : ভোটের মাঠে ৯ লাখ ৫৮ হাজার ফোর্সত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ জন এবং দেশের ৫টি জেলার ১৭টি আসনে নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে ১ হাজার ২১০ প্লাটুন, অর্থাৎ ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মোতায়েন থাকবে। কোস্ট গার্ড দেশের ১০টি জেলার ১৭টি আসনে, ২০টি উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্য মোতায়েন করবে। পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচনে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) থেকে মোট ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনের মাঠে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইসি সূত্রে যানা যায়, বিভিন্ন নির্বাচনি অপরাধে ইতিমধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৪৬৮টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।
ভোটের মাঠে থাকছে ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষকইসি সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার বিশাল বহর মাঠে থাকছে। দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থা থেকে অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন। এর মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন, যা আরও বাড়তে পারে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যাদের মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি সংবাদকর্মী। ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতিমধ্যে দেশে এসেছেন।
আরও পড়ুন
মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখএবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বাধিক ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
৫০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৫৮টি। আর মোট ভোট কক্ষ রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ইন-পার্সন ভোটিংয়ের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্র ‘সাধারণ’ এবং বাকি ৫০ শতাংশ কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর জানানো হবে ভোটের ফলাফল
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এবার ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকতে পারবে। নির্বাচনের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা (মোট চারবার) অন্তর অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফলাফল একই সঙ্গে ঘোষণা করা হবে। বেশিরভাগ ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করছে ইসি। পরের দিন সকালে রিটার্নিং অফিসার ‘ফর্ম-১৮’তে স্বাক্ষর করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশিত হবে।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দলএবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় এবার ৩০০টির পরিবর্তে ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী করছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে এবার নভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ২ হাজার ২৮ প্রার্থী। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ২৭৫ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ভোট সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।
নির্বাচন কমিশন ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়ম বিতর্ক ও অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে। যেকোনো ধরনের অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটারদের প্রতি শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান সিইসি।
এফআর