রাত পোহালেই ভোট। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া নিবন্ধিত প্রায় সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও একসময়ের জোট শরিক বিএনপির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই গড়ে তুলতে পারে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তরুণদের নেতৃত্বে হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন-জিদের দল (এনসিপি) জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি ঐক্যে যুক্ত হওয়ায় এখন কেবল দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর সমীকরণে ব্যস্ত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এ জোট।
তবে শেষ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাব কষছেন নীরব ভোটাররা কোন দিকে যাবে? বুধবার ভোটের আগের দিন কোনো ধরনের প্রচার না থাকলেও দলের শীর্ষ নেতারা ও সংসদ প্রার্থীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। সবাই যার যার নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। বিশেষ দলের শীর্ষ নেতারা সকাল থেকে সারা দেশে প্রার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। নিজে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সারা দেশে পরিবেশ কেমন তা তিনি জানছেন এবং বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা তাৎক্ষণিক সমাধান বাতলে দিচ্ছেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, নির্বাচনি প্রচারে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আর সেই ভোটের ফসল ঘরে তুলতে মুখিয়ে আছেন তারা। এবার তারা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ফলাফল পেতে আশাবাদী। তবে যতই ষড়যন্ত্র হোক কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত জোট।
নেতারা বলছেন, দেশে পরপর চারটি নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এবার মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। যদি প্রকৃত গণরায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তবেই জাতির এই আনন্দের পূর্ণতা পাবে। তবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে কুচক্রিমহল নানা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। যারা এসব ছড়াচ্ছে তারা মিথ্যুক। তাই এই বিষয়ে সব ধরনের অপপ্রচার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারাদারি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কোনো ধরনের জালিয়াত কিংবা জাল ভোট না দিতে পারে এবং ভোট বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র না করতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভোটগণনা শেষ না হবে, ততক্ষণ ভোটকেন্দ্র ছেড়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত জোট : ধর্মভিত্তিক আট দলের ওই ‘সমঝোতা’র সূচনা হয়েছিল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নামার মধ্য দিয়ে। শুরুতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল এই মোর্চায়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার আগের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এলডিপি এবং তার পরদিন এবি পার্টি এই জোটে যোগ দেয়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে। শেষ পর্যন্ত আসন ভাগাভাগির সমঝোতা না হওয়ায় ‘ইনসাফ না পাওয়ার’ অভিযোগ তুলে জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে ভোট করার ঘোষণা দেয় চরমোনাই পীরের দল।
নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ২৯৯ আসনে নির্বাচন করছে। এই জোটে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নতুন জেনারেশন জেডের পার্টি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বে দেওয়া কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দল এলডিপি, কওমিপন্থি দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ইসলামপন্থি ও ডানপন্থি দলগুলোকে নিয়ে ১১ দলীয় জোট গঠন করেছে।
২২৪টি আসনে বিএনপি জোটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জামায়াতে ইসলামী। বাকি ৭৫টি শরিক দলকে দিয়েছে। জোটবদ্ধ আসনের মধ্যে এনসিপি ৩২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২২, খেলাফত মজিলস ১২, এলডিপি ৭, এবি পার্টি ৩, নেজামে ইসলাম পার্টি ২, বিডিপি ২টি আসনে নির্বাচন করছে। তবে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে থাকা অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছেÑ এমন কিছু আসনেও জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে। সমঝোতার কারণে কিছু আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে তাদের নাম ব্যালটে থাকবে। জোটের অন্য দলের মধ্যেও একই অবস্থা। এসব আসনের বাইরেও তাদের বেশ কিছু প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও লেবার পার্টি আসন ছাড়াই জোটে রয়েছে।
জোটের নেতা এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন জামায়াত আমির। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন, আর শফিকুর রহমান দেশজুড়ে সফর করে দ্রুত গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ছাড়া নির্বাচনের প্রচারের সময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর ৪৮টি জেলায় নির্বাচনি প্রচারে সফর করেছেন। এই জেলাগুলোতে দাঁড়িপাল্লা তথা ১১ দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তিনি সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান আচরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জনসভায় নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। এই গণজোয়ারে বলছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয় আসবেই। তারা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসী।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, এবারের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে এবং বাংলাদেশে ইনসাফের সরকার গঠনে শতভাগ আশাবাদী। তবে আমাদের কিছু শঙ্কা রয়েছে। এ জন্য আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই— যদি ভোট নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করা হয় — তা হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এবার কোনো ষড়যন্ত্রেই কাজ হবে না, গণজোয়ারে সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে ইনশাআল্লাহ, বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একটি দল সাহস হারিয়ে এবং জনগণের সমর্থন পাবে না বুঝতে পেরে হামলা ও ষড়যন্ত্রমূলক আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
জুবায়ের বলেন, আর কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরেরও বেশি সময় স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও মানুষের আশা-আকাক্সক্ষাকে ধ্বংস করেছে। চব্বিশের আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। সব জায়গায় ভোটদানের সুন্দর পরিবেশ আমরা আশা করি।
তিনি বলেন, এ সময় উদ্বেগজনক কিছু ঘটনা ঘটছে। আমাদের প্রার্থী, নেতৃবৃন্দ, এজেন্ট এবং কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, অফিসগুলোতে হামলা করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটের এই পরিবেশকে নষ্ট করতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং জনগণ যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারে, সে জন্য একদল সন্ত্রাসী চেষ্টা করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই — অতীতে সাড়ে ১৫ বছর যারা এগুলো করেছেন তারা অন্যায় করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য হয়নি। গত সাড়ে ১৫-১৬ বছর যারা নির্বাচনে জড়িত ছিলেন, তাদেরকে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে। এই নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা আছেন, তাদের আমরা অনুরোধ করব জনরোষে আপনাদের সরে পড়তে হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই আপনারা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে যাবেন না। সঠিক ও যথার্থ দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো অবস্থায় যদি একপেশে ভূমিকা পালন করেন, তা হলে জনগণ আপনাদের ছেড়ে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একদল লোক বিভিন্ন ধরনের সাজানো ঘটনাগুলো দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সামগ্রিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি এটি সুস্থ ধারার রাজনীতি নয়। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
নির্বাচনে ভোটের দিন হামলা বা সহিংসতা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
হামলা হলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না। আমরা কোনো অবস্থাতেই মাঠ ছাড়ব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তুলে জামায়াতের এ নেতা বলেন, আমরা বডি ক্যামেরার তালিকা পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে দেখা গেছে, যেসব আসনে বিএনপির অবস্থান ভালো সেখানে ক্যামেরা কম, আর যেখানে জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী সেখানে অস্বাভাবিক বেশি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। এটি কমিশনের পক্ষপাতিত্বের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
জামায়াত নেতার কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে সুস্পষ্ট নাটক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ঢাকা বিমানবন্দরে চেকিংয়ের সময় কর্তব্যরত অফিসাররা তার ব্যাগে টাকা দেখেছিলেন। ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি টাকা বহন করছিলেন, যা আইনের কোনো লঙ্ঘন নয়। কিন্তু সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চিহ্নিত কিছু সাংবাদিককে ডেকে এনে পুলিশ এই নাটক সাজিয়েছে।
জামায়াত আমির : জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতি যখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, তখন কেউ কেউ দেশে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। এসব অপপ্রচারে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ভোট আপনার অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। আপনার পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকে ভোট দিন, গোটা দেশবাসী সেটিই প্রত্যাশা করে।
অন্য আরেক পোস্টে তিনি তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রিয় জেন-জি, তোমরাই জুলাই বিপ্লবের নায়ক। তোমাদের সাহস ও ত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগামীকাল আরও একবার তোমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দাও, তোমরাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের ১৩টি নির্বাচনি বুথ ভাঙচুর করা হয়েছে। বুধবার এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াত আমির নিজেই।
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে জানান, ঢাকা-১৫ আসনে তার নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র ১৩টি বুথ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি কাপুরুষোচিত কাজ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যারা এখনও সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামিয়ে দিতে চায়, তারা ভুলে যাচ্ছে — এ জাতি জুলাই পেরিয়ে এসেছে।
জাপানি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ : জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার সকাল ৯টায় জামায়াত আমিরের বসুন্ধরার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ও জাপানি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনপ্রধান মাসাতো ওয়াতানাবে।
সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করা।
চীনা নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছে চীনা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিনিধি দল। বেলা ১১টায় রাজধানীর বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চার সদস্যবিশিষ্ট চীনা প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন দেশটির বিশিষ্ট কূটনীতিক চেন ওয়েই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই পর্যবেক্ষক টিম ঢাকা সফরে এসেছে।
বৈঠককালে চীনা প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ মিলে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উভয় দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এফআর