সকাল তখন পৌনে নয়টা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়ালেই বোঝা যায়—আজ ভোটের দিন। কেন্দ্রের প্রবেশমুখে লম্বা সারি, তবে কোনো অস্থিরতা নেই; ধীরস্থিরভাবে নিজের পালার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ভোটাররা। শীতের সকালের মৃদু রোদ আর মানুষের মুখে উৎসবের হাসি—সব মিলিয়ে যেন এক অন্যরকম সকাল।
সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলার অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। অনেক নারী পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দলবেঁধে কেন্দ্রে এসেছেন। কেউ এসেছেন ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে, আবার কেউ পাশের বাড়ির প্রতিবেশীদের সঙ্গে। নারী ভোটারদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা থাকায় অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম।
একটি কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কলেজছাত্রী তানিয়া আক্তার জানান, এটি তার জীবনের প্রথম ভোট। তিনি বলেন, ভোট দিতে পারব—এই ভাবনাটা কয়েকদিন ধরেই খুব উত্তেজনা তৈরি করছিল। সকালে তাড়াতাড়ি উঠে বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে চলে এসেছি।
একই ধরনের উচ্ছ্বাস দেখা যায় অনেক নতুন ভোটারের মধ্যেই; ভোট দিয়ে বেরিয়ে আঙুলের কালি দেখিয়ে ছবি তুলতেও দেখা যায় অনেককে।
তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, পরিবারের তরুণ সদস্যরা বয়স্ক বাবা-মা বা দাদা-দাদিকে ধরে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা থাকায় নির্বিঘ্নেই ভোট দিতে পেরেছেন তারা।
নিরাপত্তার দিক থেকেও সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। কেন্দ্রের ভেতরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, আর কেন্দ্রের আশপাশে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে মোবাইল টহল অব্যাহত থাকায় ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
কেন্দ্রের বাইরে চায়ের দোকান কিংবা রাস্তার পাশে ছোট ছোট জটলায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলতে দেখা যায়। কে এগিয়ে, কার সম্ভাবনা বেশি—এসব নিয়ে নানা বিশ্লেষণ থাকলেও ভোটারদের মুখে একটি কথাই বেশি শোনা যায়—শান্তিতে ভোট দিতে পারলেই আমরা সন্তুষ্ট।
সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত জেলার বেশিরভাগ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলতে থাকায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী, তরুণ ও নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং উৎসবমুখর পরিবেশেই সম্পন্ন হবে দিনের ভোটগ্রহণ।
এফআর