ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততা আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বহু প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না কৃষক বাশেদ আলীর (প্রায় ৭০)।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ওসমানেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার মধ্য ওসমানেরপাড়া গ্রামের কুদ্দুর আলীর ছেলে। জীবনের বেশিরভাগ সময় কৃষিকাজেই কাটিয়েছেন এই প্রবীণ মানুষটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকেই এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদের মতো বাশেদ আলীও সকালে বাড়ি থেকে ভোট দিতে বের হন। ধীর পায়ে কেন্দ্র পর্যন্ত গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে কিছু দূর এগোতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র এলাকায় কিছু সময়ের জন্য শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেক ভোটারই বলেন, শেষ বয়সেও দায়িত্ববোধ থেকেই ভোট দিতে এসেছিলেন তিনি।
ওসমানেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জহুরুল ইসলাম জানান, কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে গিয়ে বাশেদ আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, নিহতের ছোট ভাই সাইদুর রহমান ওই কেন্দ্রে একটি প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি লিখিতভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল কবির বলেন, বৃদ্ধের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে জানা গেছে।
গ্রামের মানুষ বলছেন, বাশেদ আলী ছিলেন শান্ত স্বভাবের পরিশ্রমী কৃষক। বয়সের ভার আর শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত কৃষিকাজে যুক্ত থাকতেন এবং প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়াকে নিজের দায়িত্ব মনে করতেন। বৃহস্পতিবারও সেই দায়িত্ব পালন করতেই তিনি ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন।
নির্বাচনের উৎসবমুখর দিনে তার আকস্মিক মৃত্যু গ্রামজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ভোট দিয়ে এসে দুপুরে একসঙ্গে খাওয়ার কথা ছিল—কিন্তু তিনি আর ফিরলেন না।
সময়ের আলো/জোআই