পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সুগার মিল পরিদর্শন করেছে চীনের খ্যাতনামা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জুলং গ্রুপ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পেং ওয়াং-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় তারা মিলটি পুনরায় চালুসহ সৌর বিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত দেন।
পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চায়না জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং পঞ্চগড় সুগার মিলের অবকাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি কারখানা। এর বিশাল অবকাঠামো ও অবস্থান আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমরা মনে করি, এই চিনিকলটিকে একটি নতুন জীবন দেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। চীনে আমাদের ৩০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ১০ বছর ধরে আমরা বাংলাদেশে ব্যবসা করছি। আমি আমার দেশ থেকে আরও বিনিয়োগকারী এখানে নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এটি আমাদের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সুযোগ হতে পারে।
পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সেই অনিয়মের মাশুল এখন দেশের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি ও পরিবেশ সোলার প্রজেক্টের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারিভাবে এখানে বড় আকারের সোলার প্রজেক্ট স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। খুব দ্রুত এই সোলার প্রজেক্টগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে এবং আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে করে গ্রামীণ জনপদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বন্ধ থাকা পঞ্চগড় সুগার মিল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সুগার মিলের যন্ত্রপাতির মতো এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারেও মরিচা পড়ে গেছে, তারা অনেকটা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছে। এই স্থবিরতা ও বন্ধ্যাত্ব দূর করে মিলটিকে পুনরায় সচল করার জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চীনের এই বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে।
সময়ের আলো/এনএন