ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ২০৯ আসনে বিজয়ী হওয়ায় সরকার গঠন করবে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। নির্বাচনের আগেই সমমনা দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় জোটসঙ্গী দলের নেতাদেরও দেখা যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করা হতে পারে। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ হতে পারে। পরে দুদিনের মধ্যে মন্ত্রীসভার শপথের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গেজেট জারি করা হবে। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সংসদ নেতা নির্বাচন করার পর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
কোনো দল বা জোট কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেলেই একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্ত পূর্ণ হয়। সাধারণত একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের প্রধানকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসনে জয়ী দলকে তখন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। নতুন মন্ত্রীসভার দাফতরিক কাজ করে থাকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। বঙ্গভবনে মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। রাষ্ট্রপতি প্রথমে সরকারপ্রধানকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে।
গণমাধ্যমকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে। এদিকে এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কেমন মন্ত্রীসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, এটি নিশ্চিত করেছেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। এ ছাড়া বিএনপির মন্ত্রীসভায় কারা কারা থাকবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা মহলে আলোচনা।
আরও পড়ুন
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে মন্ত্রীসভায় কারা কারা থাকবেন তার খসড়া তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় এর আগে যারা মন্ত্রীসভায় ছিলেন তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়া অনেক তরুণ এমপিও স্থান পেয়েছেন। জোট নেতা আন্দালিভ রহমান পার্থ, জুনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুরের মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য থাকবেন মন্ত্রীসভায়। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্ত্রীসভায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।
এ ছাড়া এমপিদের মধ্যে বরকতুল্লাহ বুলু, জয়নাল আবদীন ফারুক, আসাদুল হাবিব দুলু, রেজা কিবরিয়া, মিজানুর রহমান মিনু, ফজলুর রহমান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ড. ওসমান ফারুক, এহসানুল হক মিলন, আলী আসগর লবী, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুস সালাম পিন্টু, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কায়সার কামাল, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, দেওয়ান সালাউদ্দিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ইশরাক হোসেন, মীর শাহে আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ফজলুল হক মিলন, ওমর খৈয়াম, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, ববি হাজ্জাজ আলোচনায় রয়েছেন। নারী এমপিদের মধ্যে শামা ওবায়েদ ও ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় বেগম সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আমিনুল হক, মাহমুদুর রহমান মান্না মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড় ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি পরিবহন পুল প্রায় ৫০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখছে। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
এএডি/