পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে সশরীরে অভিনন্দন জানান পঞ্চগড়-১ আসনের এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম। তবে সে অভিনন্দন জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি সুর পাল্টিয়ে পুরো আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এই ‘ইউ-টার্ন’ বা অবস্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির ৮ হাজার ১২০ ভোটে জয়ী হন, সারজিস আলম পরাজিত হন।
ফল ঘোষণার সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিজয়ী প্রার্থী নওশাদ জমিরের পাশে বসা ছিলেন সারজিস আলম।
তিনি হাসিমুখে নওশাদকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, জনগণ যদি এক ভোটেও এগিয়ে রাখে, সেই রায়কে সম্মান করা আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। প্রতিদ্বন্দিকে সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব।
বিষয়টি সাংবাদিক ও সুধীজন ‘নতুন ধারার রাজনীতি’ ও ‘উচ্চতর রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ হিসেবে ভূয়সী প্রশংসা করেন। সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে রিপোর্ট প্রকাশ হয়।
কিন্তু প্রশংসার রেশ কাটতেই গভীর রাতে ফেসবুকে এক বিস্ফোরক পোস্ট দেন সারজিস আলম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের রায়ের প্রতি তার সম্মান থাকলেও কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম ও ফল পরিবর্তনের অভিযোগ পেয়েছেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা সারজিস আলমের অবস্থানকে ‘রাজনৈতিক অপরিপক্কতা’ হিসেবে দেখেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু জানান, ফলাফল ঘোষণার সময় সারজিস আলম নিজে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি কেন্দ্রে তার এজেন্ট ছিল। কোথাও কোনো অনিয়মের খবর তখন পাওয়া যায়নি। অভিনন্দন জানানোর পর এখন এমন দাবি তোলা গ্রহণযোগ্য নয়। এটা চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব ও অপরিপক্কতার প্রমাণ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর যদি ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকে, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে আবেদন করতে পারেন। বিধি অনুযায়ী অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আরবিএন