আগামী ১-২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারী এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্ট। এই মেগা ইভেন্টকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সকালে জাতীয় স্টেডিয়ামে ঋতুপর্ণা-মনিকা-আফঈদাদের নিয়ে মাঠে নামেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। তবে মাঠের অনুশীলনে ব্যস্ততা থাকলেও মাঠের বাইরের সমন্বয়হীনতা আর অপরিকল্পিত প্রস্তুতি নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে থাইল্যান্ড বা ফিলিপাইনে সপ্তাহখানের ক্যাম্প ও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোচ পিটার বাটলারের আপত্তিতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। কোচের যুক্তি, ঘরোয়া লিগ শেষ হওয়ার পর এই মুহূর্তে ম্যাচ খেললে ফুটবলারদের ইনজুরির ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা দলের মানসিক চাপে ফেলবে। ফলে ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢাকাতেই ৫-৬ দিন অনুশীলনের পর সরাসরি সিডনি পাঠানো হবে দলকে।
বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ সময়ের আলোকে জানান জানান, ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দল সিডনির উদ্দেশে রওনা হতে পারে এবং সেখানে স্থানীয় ক্লাবের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। কিরণ বলেন, ‘চূড়ান্ত পর্বের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল কিন্তু সেটা এখন আর হচ্ছে না। দল সরাসরি অস্ট্রেলিয়া যাবে। ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সিডনির উদ্দেশে রওনা হতে পারে। সিডনিতে গিয়ে একটি স্থানীয় ক্লাবের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।’
গত বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমারে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এই মিশনকে ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’ নাম দিয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট ঘনিয়ে এলেও কোনো কার্যকর রোডম্যাপ দিতে পারেনি নারী উইং। জাপান, নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে মাহফুজা আক্তার কিরণের ব্যাখ্যা, উন্নত দলগুলো আগে থেকেই ব্যস্ত থাকায় তাদের দেশে গিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তাবিথ আউয়ালের কমিটি এক বছর পার করলেও এখনও নারী উইং পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। ফলে একক সিদ্ধান্তে চলছে সব কার্যক্রম। কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকায় কোচ পিটার বাটলারের ওপর কোনো কার্যকর জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। সুইডিশ প্রবাসী আনিকাকে সরাসরি দলে রাখা হলেও সাবিনা-মাসুরার মতো বিবেচনায় নেননি বাটলার।
সময়ের আলো/এনএ