ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির দুই সংসদীয় আসনে নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পারায় মোট ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
ঝালকাঠি জেলার এ দুই আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৮ জন প্রার্থী।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪টি ভোট পড়ে। সেখানে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ১৬ হাজার ১৩১ ভোট। নির্ধারিত এই সীমার নিচে ভোট পাওয়ায় আট প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মইন আলম ফিরোজী, জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান খান, জনতার দলের মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার, জাতীয় পার্টি-জেপির মো. রুবেল হাওলাদার, গণঅধিকার পরিষদের মো. শাহাদাৎ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর (অব) মো. সাবির আহমেদ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মো. সোহরাব হোসেন।
এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি পেয়েছেন ৬২ হাজার ১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১২০ ভোট।
ঝালকাঠি-২ (নলছিটি-ঝালকাঠি সদর) আসনে ফলাফল অনুযায়ী মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৪টি। সে হিসেবে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২৭ হাজার ৬৫৮ ভোট। কিন্তু ছয় প্রার্থী ওই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফোরকান হোসেন (১২৭ ভোট), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মাসুদ পারভেজ (১০৫ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুদ্দীন সরদার (৭৭ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহমুদুল ইসলাম সাগর (১২২ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী (৩১২৫ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (২৪ হাজার ৫৪৩ ভোট)।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫৫৬ ভোট। নির্ধারিত সীমার বেশি ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
উল্লেখ্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪২ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন