দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে নজরদারিতে থাকা ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো দেশত্যাগের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। ইউক্রেনের ন্যাশনাল এন্টি বিউরো অফ ইউক্রেন (নাবু) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার গোপনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে আছেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
নাবুর ভাষ্য অনুযায়ী, বহুল আলোচিত ‘মিডাস’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন গালুশচেঙ্কো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- প্রভাব খাটিয়ে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় চুক্তি প্রক্রিয়ায় ঘুষ নেওয়া। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এনারগোয়াটমের বিভিন্ন ঠিকাদারি চুক্তিতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অবৈধ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার অবৈধভাবে উপার্জন ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। এরপর রাজনৈতিক চাপের মুখে নভেম্বরে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত থাকায় বিষয়টি দেশটির রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতার কেবল একটি ব্যক্তিগত দুর্নীতির মামলা নয়; বরং এটি ইউক্রেনের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। চলতি বছরেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কো–সহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারবিরোধী সমালোচনাকে জোরালো করেছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ইউক্রেনের জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই দেশটির ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে গালুশচেঙ্কোর গ্রেফতারকে অনেকে দেখছেন ইউরোপীয় মানদণ্ড পূরণের পথে সরকারের কঠোর বার্তা হিসেবে।
এএডি/