নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভা গঠনে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে মন্ত্রিসভায় পুরোনো নেতৃত্বের পাশাপাশি একাধিক নতুন মুখ দেখা যাবে এটা অনুমেয়। একইসঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা বিষয়েও ভাবছে দলটি।
সূত্র আরো জানায়, বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের পর থেকে প্রতিদিন গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা নিয়ে তার ঘনিষ্ঠ আর দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। একই সঙ্গে দেশের অভিজ্ঞ বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকেও পরামর্শ নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভা শুধু ক্ষমতার ভারসাম্য নয়, বরং প্রশাসনিক দক্ষতা ও জনমুখী ভাবমূর্তি বিবেচনায় রেখে সাজানো হচ্ছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে সামনে রেখে দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র বলছে, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য— এ ছয়টি মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদেরও দেখা যেতে পারে। নির্বাচনে ভালো করা কয়েকজন নতুন সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
একই সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাদেরও মূল্যায়ন করা হবে। তবে বিতর্কিত বা সমালোচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এড়িয়ে একটি পরিষ্কার ভাবমূর্তির মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
দেশের রাজনৈতিক মহল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের আলোচনায় এখন সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম। কে পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব— তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে শপথের দিনই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নতুন সরকার শুরুতেই শক্ত বার্তা দিতে চাইবে। তাই মন্ত্রিসভা গঠনই হতে যাচ্ছে সরকারের প্রথম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষা।
তরুণের মধ্যে আলোচনায় আছেন যারা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ড. হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাটে), সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, ড. মাহদী আমিন (টেকনোক্র্যাটে), ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার (টেকনোক্র্যাটে), সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম (টেকনোক্র্যাটে), প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম (টেকনোক্র্যাট), মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীন (টেকনোক্র্যাট), ড. রেজা কিবরিয়া, সাঈদ আল নোমান, খন্দকার আবু আশফাকরা মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে সিনিয়রদের মধ্য বিএনপির ২০০১-২০০৬ সরকারের সময়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে এবারের মন্ত্রিপরিষদেও রাখার কথা ভাবছে দলটি। এছাড়া মাঠের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় একাধিক নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি অথবা উপরাষ্ট্রপতির মতো জায়গায় দেখা যেতে পারে।
মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, ইসমাঈল জবিউল্লাহ (টেকনোক্র্যাটে), মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং দলটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল (টেকনোক্র্যাট) ।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবি ও যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরু ও টেকনোক্র্যাট কোটায় ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মাহমুদুর রহমান মান্নার নামও শোনা যাচ্ছে।
সময়ের আলো/আআ