প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, প্রধান বিরোধী দল হয়েই আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত। ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের জন্য ন্যূনতম জায়গাও থাকবে না।
রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদ খান লেখেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করে আজ আবার দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া দিয়েছে জামায়াত-শিবির।
তিনি আরও লেখেন, অতীতে আমরা বিরোধী দলকে সবসময় মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখেছি। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল হয়েই আওয়ামী লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত। এরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতকে ন্যূনতম স্পেস দেবে না।
গণঅধিকার পরিষদকে জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের প্রশংসা করেন।
রাশেদ খান লিখেন, গণঅধিকার পরিষদকে যারা জামায়াতমুখী করতে চেয়েছিল, সেসব নেতার বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সতর্কতা অবলম্বন করছে।
জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদকে স্বাগত জানান তিনি। রাশেদ খান বলেন, জামায়াত-শিবির কতটা ভয়ংকর, এখন অন্তত গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণঅধিকার পরিষদের কেউ ভবিষ্যতে টকশো কিংবা বক্তব্যে ‘জামায়াতি বয়ানে’ বক্তব্য দেবেন না।
জামায়াত ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেলের গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, দল হিসেবে জামায়াত ও তাদের সেক্রেটারি জেনারেল গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে আজকে যে জঘন্য বক্তব্য দিয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরে রাশেদ খান আরও বলেন, এই দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদের পতনে দল হিসেবে জামায়াতের তুলনায় গণঅধিকার পরিষদের অবদান বেশি। জামায়াত যখন গুপ্ত ছিল, গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে ছিল। কিন্তু আজকে তাদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে, তারাই সব করেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ