শিশুদের রোজা ও পড়াশোনা

নিবেদিতা দাস

ফিচার

রোজার মাস এলে ঘরের পরিবেশই বদলে যায়। সেহরির ভোর, ইফতারের প্রস্তুতি, নামাজের আবহ সব মিলিয়ে এক বিশেষ সময় কাটায় শিশুরা।

2026-02-17T03:54:28+00:00
2026-02-17T03:54:28+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ফিচার
শিশুদের রোজা ও পড়াশোনা
নিবেদিতা দাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
রোজার মাস এলে ঘরের পরিবেশই বদলে যায়। সেহরির ভোর, ইফতারের প্রস্তুতি, নামাজের আবহ সব মিলিয়ে এক বিশেষ সময় কাটায় শিশুরা। বড়দের সঙ্গে অনেক শিশু রোজা রাখতে চায়। এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে আনন্দের। তবে রোজার পাশাপাশি স্কুল ও পড়াশোনারও দায়িত্ব থাকে। তাই শিশুদের জন্য দরকার সচেতন পরিকল্পনা, যাতে ইবাদত ও শিক্ষা  দুটোই ঠিকভাবে চলতে পারে।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক স্কলাসটিকা গোমেজ বলেন, ‘রোজার সময় আমরা দেখি অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে কিছুটা ক্লান্ত থাকে। তবে আগেভাগে রুটিন ঠিক করে নিলে তারা পড়াশোনা ঠিকভাবে সামলে নিতে পারে। পরিবার আর স্কুল একসঙ্গে সহযোগিতা করলে সমস্যা হয় না।’

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, সব শিশুর শারীরিক সক্ষমতা এক নয়। ছোট বয়সে পূর্ণ রোজা রাখা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অনেক পরিবার ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলে, কেউ অর্ধেক দিন রোজা রাখে, কেউ কয়েকটি নির্দিষ্ট দিন। এতে শরীর ও মন দুটোই প্রস্তুত হয়। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা মনোযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ ওহী উদ্দীন সুমন বলেন, ‘দশ বছরের কম বয়সি শিশুদের পূর্ণ রোজা রাখার আগে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত। হঠাৎ দীর্ঘ সময় না খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই সেহরি ও ইফতারে সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করা খুব জরুরি।’

পড়াশোনার ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনাই মূল চাবিকাঠি। রোজার দিনে শিশুর শক্তি কিছুটা কম থাকতে পারে, তাই কঠিন বিষয়গুলো সকালে বা ইফতারের পর হালকা বিশ্রামের পর পড়ানো ভালো। ভোরে সেহরির পর কিছুটা সময় পড়াশোনা করলে মন সতেজ থাকে। আবার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ থাকলে তা কাজে দেয়। অভিভাবকদের উচিত চাপ না দিয়ে সহযোগিতামূলক আচরণ করা।

অভিভাবক নার্গিস আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে গত বছর পুরো রোজা রাখার চেষ্টা করেছে। আমি তাকে জোর করিনি। সে যদি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তা হলে অর্ধেক দিন রাখে। পড়াশোনার জন্য আমরা সকালে কিছুটা সময় ঠিক করে দিয়েছি, এতে ওর কষ্ট কম হয়।’

খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন থাকা জরুরি। সেহরিতে ভাত, ডাল, ডিম, সবজি, দুধ বা দইয়ের মতো পুষ্টিকর খাবার শিশুর শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। ইফতারিতে ফল, খেজুর, লেবুর শরবত বা ঘরে তৈরি হালকা খাবার দিলে শরীর দ্রুত চাঙ্গা হয়। পানি কম খেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকে, তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে।
অভিভাবক শারমিন সুলতানা বলেন, ‘রোজার সময় অনেক পরিবার ইফতারে ভাজাপোড়া বেশি খেয়ে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। ফল, দুধ, ডিম ও ঘরে তৈরি হালকা খাবার তাদের শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ায়।’

রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়; এটি ধৈর্য, সহমর্মিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়। শিশুদের রোজার এই দিকটি বোঝানো পরিবারের দায়িত্ব। পড়াশোনার ফাঁকে তারা কুরআন তেলাওয়াত, গল্পের বই পড়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে। এতে মানসিক প্রশান্তি আসে, যা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও এখানে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। অনেক স্কুল রোজার সময় ক্লাসের চাপ কিছুটা কম রাখে বা পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনে। যদি পরীক্ষা থাকেও তা হলে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা দরকার। শেষ মুহূর্তে রাত জেগে পড়া রোজাদার শিশুর জন্য কষ্টকর হতে পারে। তাই আগেভাগে পড়া শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর ইচ্ছাকে মূল্যায়ন করতে হবে। কেউ যদি ক্লান্ত বোধ করে বা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাকে জোর করা ঠিক হবে না। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় শিশুরা রোজা ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে শিখবে।

রোজার মাস শিশুদের জন্য হতে পারে আত্মশুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রথম পাঠ। সঠিক দিকনির্দেশনা, পুষ্টি ও সময় ব্যবস্থাপনা থাকলে তারা বুঝবে ইবাদত ও শিক্ষা পরস্পরের পরিপূরক। এই ভারসাম্যের চর্চাই তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে দায়িত্বশীল ও সচেতন মানুষ হয়ে ওঠার ভিত্তি গড়ে দেবে।


  বিষয়:   শিশু  রোজা  পড়াশোনা 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: