চেন্নাইয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন যুবরাজ সামরা। কিন্তু তার রেকর্ড ভাঙা সেঞ্চুরিও শেষ পর্যন্ত কানাডাকে জেতাতে পারল না। গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রাভিন্দ্রর বিধ্বংসী জুটিতে কানাডাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড।
প্রথমে ব্যাট করে কানাডা তোলে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান। ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সি বাঁ-হাতি ওপেনার সামরা খেলেন ৬৫ বলে ১১০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে কোনো সহযোগী দেশের ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর এটি। একই সঙ্গে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে ৫০ ছোঁয়ার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
ম্যাট হেনরির প্রথম চার বল ডট খেলেও শেষ দুই বলে টানা দুটি চার মেরে ছন্দে ফেরেন সামরা। পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে জেমস নিশামের ওপর চড়াও হয়ে চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন। এরপরও থামেননি। কাইল জেমিসন ও কোল ম্যাককনচির ওপর চড়াও হয়ে ৩৬ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। ৫৮ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন, যদিও ১০৩ রানে নিশাম লং-অনে ক্যাচ ফেলায় জীবন পান।
শেষ ওভারে গ্লেন ফিলিপসের হাতে দ্বিতীয় চেষ্টায় ধরা পড়ে তার ইনিংসের সমাপ্তি। সামরার সঙ্গে দিলপ্রীত বাজওয়া যোগ করেন ৩৯ বলে ৩৬ রান। দুজনে মিলে প্রথম উইকেটে ১৪ ওভারে তোলেন ১১৬ রান। তবে নিউজিল্যান্ডের হয়ে লকি ফার্গুসন (সন্তানের জন্ম উপলক্ষে দেশে ফেরা) ও মিচেল স্যান্টনার (অসুস্থতা) না থাকায় বোলিং আক্রমণ কিছুটা দুর্বল দেখালেও সামরার ঝড়ই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।
১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ফিন অ্যালেন। কিন্তু কানাডার বোলারদের নিয়ন্ত্রণহীনতা স্পষ্ট ছিল প্রথম ওভার থেকেই ওয়াইড, নো-বল, ওভারথ্রো মিলিয়ে সহজ রান তুলে নেয় কিউইরা। ৩.১ ওভারে ৩০ রানে ২ উইকেট হারালেও এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ফিলিপস ও রাভিন্দ্র।
তৃতীয় উইকেটে মাত্র ৭৩ বলে ১৪৬ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ বের করে নেন তারা। ফিলিপস খেলেন ৩৬ বলে অপরাজিত ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, রাভিন্দ্র ৩৯ বলে করেন ৫৯ রান। পাওয়ার-প্লের পর থেকেই কানাডার বোলারদের ওপর চড়াও হন ফিলিপস। সাদ বিন জাফর ও বাজওয়াকে টানা বাউন্ডারিতে চাপে ফেলেন। অ্যানশ প্যাটেলকে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ২২ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি।
১১ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের দরকার ছিল মাত্র ৫৩ রান। এরপর আর কোনো বাধাই দাঁড়াতে পারেনি। ফিলিপসের হাত বদলে ছক্কা, রাভিন্দ্রর নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং- সব মিলিয়ে ৪.৫ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
সামরার ১১০ রানের ইনিংস স্মরণীয় হয়ে থাকবে কিন্তু দলীয় সাফল্য এনে দিতে পারেনি। অন্যদিকে ফিলিপস-রাভিন্দ্রর ঝড়ো জুটিতে সুপার এইটে জায়গা পাকা করল নিউজিল্যান্ড।
সময়ের আলো/কেএইচও