বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পায়। সরকার গঠনের পাঁচ দিনের মাথায় ঘোষিত মন্ত্রিসভায় আলোচিত দুই ছাত্রনেতা—নুরুল হক নুর ও জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি স্থান পান। দুই জনই প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ঘটানো আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নুরুল হক নুর ও জোনায়েদ সাকিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নিয়েছেন।
নুরুল হক নুর ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে পরিচিত হন। পটুয়াখালীর এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী এই নেতা বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির বিরোধিতা করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তার অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি।
আন্দোলনের মুখে সরকার কোটা বাতিল করলেও ২০২৪ সালে আদালতের রায়ে তা পুনর্বহাল হলে আবার আন্দোলন জোরদার হয়। পরবর্তীতে সেই আন্দোলন বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। নুর গণ অধিকার পরিষদের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে তার দল অভ্যন্তরীণ সংকটে ভুগেছে। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান।
অন্যদিকে, ৫২ বছর বয়সী জোনায়েদ সাকি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে গণসংহতি আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক। অতীতে একাধিক নির্বাচনে অংশ নিলেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পান তিনি। নির্বাচনের পর তিনি স্বৈরাচারবিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বিএনপি নেতাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নুর ও সাকিকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া ছিল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তারা বিএনপির জোটসঙ্গী দলের প্রতিনিধি এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের দৃশ্যমান মুখ। ফলে তাদের অন্তর্ভুক্তি জোটের প্রতি দায়বদ্ধতা ও আন্দোলনের স্বীকৃতি—দুই দিকই তুলে ধরে। তবে তাদের জুনিয়র মন্ত্রী করা হয়েছে, যাতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় থাকে।
এদিকে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে অংশ নেয়। তারা ৩০টি আসনে লড়লেও মাত্র ৬টিতে জয় পায়। দলের তরুণ নেতা নাহিদ ইসলাম সংসদে নির্বাচিত হয়ে কনিষ্ঠ সদস্যদের একজন হয়েছেন। বর্তমানে এনসিপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা বিরোধী দলে অবস্থান করছে।
/ইউএমএইচ