লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে কলেজছাত্র আশরাফুল হত্যার এক মাস পার হলেও মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে থাকায় এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশরাফুলের সহপাঠীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসের হাট বাজারে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তারা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানববন্ধনে সন্তানহারা মা নিগার সুলতানার আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আশরাফুলের মামা কে এম সালেহ আহমেদ অভিযোগ করেন, এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে উত্তর চরবংশী গ্রামের পূর্ব ডালি কান্দি বিলে নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীসহ অভিযুক্তরা আশরাফুলের ওপর হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় নিউ লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হলে ২০ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৬ জনকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেন।
পরে ২৩ জানুয়ারি রাতে র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাকিল বেপারী, সোহাগ বেপারী ও মোক্তার পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে।
মানববন্ধনে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হাবিব, নিহতের বাবা আজিজুল হক, অন্তরা আক্তারসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
নিহত আশরাফুল রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
সময়ের আলো/আরবিএন