লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নতুন ভোটার হওয়া ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্থানান্তর করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও নানা অজুহাতে আবেদন আটকে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে একই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চর কাদিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নদীভাঙনকবলিত ও ভূমিহীন দিনমজুর মো. সোহেল ও মো. আলাউদ্দিন এনআইডি স্থানান্তরের আবেদন করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন। বসতভিটা ও জমিজমা না থাকায় তাদের কোনো দলিল বা খতিয়ান নেই—এমন কারণ দেখিয়ে কার্যালয় থেকে তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম জানান, অনলাইন খতিয়ান না থাকার কথা বলে তার এনআইডি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, হাজিরহাট ইউনিয়নের স্বপ্না বেগমের সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও বয়স বেশি দেখানোর অজুহাতে তাকে নতুন ভোটার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সাধারণ মানুষ সরাসরি নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে দায়িত্বরত কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকেন। অথচ দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার চুক্তি করলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সত্যায়নকেও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বারবার নির্বাচন কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন কমলনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, তার কার্যালয়ে কোনো দালালের অস্তিত্ব নেই এবং কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হচ্ছেন না। নিয়ম অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সময়ের আলো/এসএকে