প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করেই শুরু করেছেন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। যে অভিযাত্রায় রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। কারণ সাধারণ মানুষ চায় এই মাসে দ্রব্যমূল্য তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকুক। অবশ্য গতকাল প্রথম দিন নবনির্বাচিত বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন চাহিদা অনুপাতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এই অভিযাত্রায় বিএনপি সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও, মোকাবিলা করার সক্ষমতা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান গতকাল বুধবার প্রথম সচিবালয়ে তার দফতরে অফিস করলেন। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক করলেন। বৈঠকে মন্ত্রীদের জন্য বেশ কিছু অনুশাসন ও নির্দেশনা দিলেন। আশার কথা, মন্ত্রিসভার প্রত্যেক সদস্য তার অনুশাসনের প্রতি ইতিমধ্যে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। যার প্রতিফলন ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে শুধু মন্ত্রিসভা বৈঠক করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের মধ্য দিয়ে সচিবরা বর্তমান বিএনপি সরকারের বার্তা পেয়ে গেছেন। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হচ্ছে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করতে হবে। দুর্নীতিকে দূর করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তার নির্বাচনি বিভিন্ন জনসভায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলেও, বাংলাদেশের যাবতীয় সম্পর্কে তিনি অবগত। বিশেষ করে ঢাকা শহরে ভিআইপি মুভমেন্ট নিয়ে যে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয় তা তিনি আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। যে কারণে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ভিআইপি মুভমেন্টে জনদুর্ভোগ এড়াতে আইজিপিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। এই বার্তা যদি ট্রাফিক বিভাগ কার্যকর করতে পারে তা হলে ঢাকায় দ্রুত যানজট নিরসন হবে বলে আশা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তিনি যে ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছেন তা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। আশা জাগাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমগুলো। মুখে শুধু গণতন্ত্র বলে ইতিপূর্বের সরকার গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। গতকাল সময়ের আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার শিরোনাম হচ্ছে- তারেকের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন।
বিশেষ করে তার শপথ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত অবিরাম পথ চলার যে পরিক্রমা তা দেশকে একটি সুন্দর পথে চালানোর ইঙ্গিত বহন করে। সময়ের আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত এই নির্বাচিত সরকারকে ঘিরে দেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু হয়েছে। বিপুল ভোটে জয়ের পর তিনি ছুটে গেলেন বিরোধী দলের নেতাদের বাসায়। গেলেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বাসায়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায়। আরও গেলেন ইসলামী দলের নেতাদের বাসায়। এটা গণতন্ত্র সংস্কৃতির একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত।
তারেক রহমান সবার সঙ্গে বেশ আন্তরিকভাবে কথা বলছেন। দূরত্ব বজায় রাখার পরিবর্তে কাছে টানার পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথরেখা। যে পথরেখায় বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে প্রস্ফুটিত হবে, সে প্রত্যাশা দেশবাসীর।
সময়ের আলো/আআ