রমজান মাসে ইফতারের সময় খেজুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যাস্তের সময় বিশ্বের কোটি মুসলিম এই ফলটি বেছে নেন রোজা ভাঙার জন্য। ইসলামের নবী রোজা ভাঙার জন্য খেজুর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন, এবং কুরআনেও খেজুরের উল্লেখ আছে।
খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর চিনি এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রোজাদারের শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে। দীর্ঘ সময় কিছু না খাওয়ার পর শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে এটি আদর্শ।
শুকনো হলেও, খেজুর শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা পটাসিয়াম শরীরের কোষগুলোকে পানিতে পরিপূর্ণ রাখে। খেজুর খাওয়ার সঙ্গে পানি পান করলে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
ঐতিহ্যগতভাবে রোজাদাররা ইফতারে ৩, ৫, ৭ বা ৯টি খেজুর খেয়ে মাগরিব নামাজ আদায় করেন। খেজুর হজম শুরু করলে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় এবং খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
রমজান মাসে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা সাধারণ সমস্যা। খেজুরে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্জ্য পদার্থকে সহজে বের করতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শুকনো ফল রাখলে ফাইবার গ্রহণ বাড়ানো যায়।
শত শত ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। কিছু শক্ত, কিছু নরম; ত্বক পুরু বা পাতলা। যদি খেজুর খেতে ইচ্ছা না করে, স্মুদি বা শরবতে খেজুর ব্যবহার করা যেতে পারে। খেজুর ও দুধ, সামান্য দই এবং অন্যান্য শুকনো ফল মিশিয়ে খেলে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
রমজানে খেজুর শুধু ধর্মীয় নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও রোজাদারদের জন্য আদর্শ খাবার।
এটি শরীরকে শক্তি দেয়, হজম সহজ করে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। রোজাদারদের উচিত এই ফলকে ইফতারের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখার মাধ্যমে শরীর সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখা।
সময়ের আলো/আরবিএন