ইইউর বাইরে ‘প্রত্যাবাসন কেন্দ্র’ বানাতে চায় ৫ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের কোনো দেশে রিটার্ন হাব বা অভিবাসী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র নির্মাণে করতে

2026-02-19T21:30:09+00:00
2026-02-19T21:30:31+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইইউর বাইরে ‘প্রত্যাবাসন কেন্দ্র’ বানাতে চায় ৫ দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩০ পিএম  আপডেট: ১৯.০২.২০২৬ ৯:৩০ পিএম
সংগৃহীত ছবি
অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের কোনো দেশে রিটার্ন হাব বা অভিবাসী প্রত্যাবাসন কেন্দ্র নির্মাণে করতে চায় জোটভুক্ত পাঁচ দেশ। সংবাবমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টসের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দেশগুলো হলো- গ্রিস, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্ক। এই পাঁচ দেশের উদ্দেশ্য, আফ্রিকার কোনো একটি দেশে রিটার্ন হাব বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র নির্মাণ করা। আশ্রয়প্রার্থীদের বা যাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার বৈধতা নেই এমন ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে এই কেন্দ্রটিতে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। 

গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইআরটি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন গ্রিক অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন কেন্দ্রটি সব ঠিক থাকলে আফ্রিকাতেই হবে।

এই পাঁচটি দেশের মন্ত্রীরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে কারিগরি দলের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে বসবেন। প্লেভরিস বলেন, এখন আমরা তাত্ত্বিকভাবে নয়, বাস্তবিক আলোচনা করছি।

আফ্রিকার কথা নির্দিষ্ট করে বললেও মহাদেশটির কোন কোন দেশকে রিটার্ন হাব নির্মাণের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে তা নিয়েও কোনো তথ্য দেননি মন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আফ্রিকাকে বেছে নেওয়াটা এখনও চূড়ান্ত নয়।

তিনি বলেন, ইউরোপের বড় বড় দেশগুলোই বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্য আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলছে। এই আলোচনায় অবশ্য আমরাও অংশ নিচ্ছি বলেও জানান প্লেভরিস।

মন্ত্রী বলেন, রিটার্ন হাবে তাদেরকেই রাখা হবে, যাদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়েছে এবং যাদেরকে নিজ দেশ ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানাবে। রিটার্ন হাব নির্মাণ সফল হলে অনিয়মিত অভিবাসন কমে আসবে বলেও ধারণা করছেন তিনি।

থানোস প্লেভরিস বলেন, এই প্রকল্পটি যাদের আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম এমন মানুষকে অভিবাসনের প্রতি নিরুৎসাহিত করবে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলতে চায় এই পাঁচ দেশ। তবে, কবে নাগাদ এমন কেন্দ্র চালু হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তীয় দেশ গ্রিস দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার যুদ্ধ ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য ইইউতে ঢোকার প্রধান প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে।

প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে আসেন। তাদের বেশিরভাগই তুরস্কের উপকূল থেকে এজিয়ান সাগর পেরিয়ে গ্রিক দ্বীপগুলোতে আসেন। তবে গত বছর উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া ও তিউনিশিয়া থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে গাভদোস ও ক্রিট দ্বীপে এসেছেন।

অভিবাসন মোকাবিলায় এথেন্স ক্রমেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে চলেছে। অন্যদিকে, দেশটির কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধেও ‘পুশব্যাক’ (অর্থাৎ নতুন আগতদের আশ্রয়ের আবেদনের সুযোগ দেওয়া ছাড়াই তাড়িয়ে দেওয়া) করার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু গ্রিক সরকার সেই অভিযোগ কখনও আমলে নেয়নি, উল্টো অস্বীকার করে আসছে।

প্লেভরিস বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে গ্রিসে অনিয়মিতভাবে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে এবং গত পাঁচ মাসে সেটা কমেছে অন্তত ৪০ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নতুন অভিবাসন নীতি অনুমোদন করেছে। সেই নীতি অনুযায়ী, যদি কেউ নিরাপদ দেশ থেকে আসেন বা ইইউর ২৭ দেশের বাইরে কোনও দেশে আশ্রয়ের আবেদনের সুযোগ পান, তাকে আশ্রয় না দিয়ে ফেরত পাঠানো যাবে।


প্লেভরিস বলেন, যাদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়েছে তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে গ্রিক সরকার। তিনি বলেন, গ্রিস প্রতি বছর পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠায়। কিন্তু বছরে অন্তত ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার অভিবাসী আসেন, যাদের অর্ধেকের আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়ে যায়।

এই হার নিয়ে সন্তুষ্ট নয় গ্রিক সরকার। তাই ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। গ্রিক মন্ত্রী বলেন, ইতালি ও স্পেনের অভিবাসনমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে আগামী সপ্তাহে রোমে যাচ্ছেন তিনি। অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উৎসদেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তাদের। 

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   প্রত্যাবাসন  কেন্দ্র  দেশ  ইউরোপ  আফ্রিকা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: