রোহিঙ্গা শিবিরের ধূলিমাখা মাঠে নেমে যেন বিশ্বকাপের আবহ ফিরিয়ে আনলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল। উখিয়ার রোহিঙ্গা কিশোরদের সঙ্গে চ্যারিটি ফুটবলে অংশ নিয়ে তিনি মানবিক সংহতির এক অনন্য বার্তা দেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের মাঠে আয়োজিত একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেন তিনি।
গ্যালারিতে হাজারো রোহিঙ্গার উচ্ছ্বাস আর শিশু-কিশোরদের আনন্দে মাঠটি মুহূর্তের জন্য যেন বিশ্বমঞ্চে পরিণত হয়। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে পেরে নিজের ভালো লাগার কথা জানান ওজিল। তার সঙ্গে একই মাঠে খেলতে পারা স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা বলে জানান রোহিঙ্গা কিশোররা।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছে তুর্কি সরকারের সহায়তায় পরিচালিত একটি ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করে। সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও রোগীদের খোঁজখবর নেন তারা। পরে তারা তুরস্কের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা টিকা (Turkish Cooperation and Coordination Agency) পরিচালিত এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার ঘুরে দেখেন।
রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সেলফিতে অংশ নেন ওজিল এবং প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান। তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকা থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার পৌঁছায়। সরকারি কর্মকর্তা ও তুর্কি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন ওজিল ও বিলাল এরদোয়ান।
ধূলিমাখা রোহিঙ্গা শিবিরের মাঠে বিশ্বকাপ তারকার উপস্থিতিতে ফুটবল যেন শুধু খেলা নয়, হয়ে ওঠে মানবতার ভাষা।
এদিকে শিবির এলাকা ত্যাগ করার সময় প্রতিনিধি দলকে বহনকারী একটি গাড়ি একটি টমটমের সঙ্গে পাশ কাটাতে গিয়ে হালকা ধাক্কা লাগে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
সময়ের আলো/আরবিএন