এএফসি এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে চীন, উজবেকিস্তানের মতো পরাশক্তিদের মোকাবিলা করা যেকোনো দলের জন্যই অগ্নিপরীক্ষা। সেই কঠিন মিশনের আগে নিজেদের ফুটবল দর্শনে অনড় থাকলেও কৌশলে কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার।
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া যাত্রার আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, মাঠে কেবল প্রতিপক্ষের আক্রমণের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজস্ব পরিকল্পনায় ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ ফুটবল খেলতে চায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আক্রমণাত্মক দর্শনেই ভরসা, তবে কৌশলে পরিবর্তন নিজের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ঘরানা থেকে পুরোপুরি সরে আসছেন না কোচ। তবে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে মাঠের বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা পরিবর্তন ও পরিমার্জন করতে হবে। আমরা এ নিয়ে কিছুটা কাজ করছি, যদিও হাতে খুব বেশি সময় ছিল না সেটি আমি আবারও বলছি। তবে আমি এ নিয়ে অভিযোগ করছি না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার মনে হয় ‘রিঅ্যাক্টিভ’ (প্রতিক্রিয়াশীল) হওয়ার চেয়ে ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ (পূর্বপ্রস্তুতিমূলক) হওয়া ভালো। আমরা হয়তো সিস্টেমে কিছু পরিবর্তন আনব এবং দলে কিছুটা গতি বাড়ানোর চেষ্টা করব।
প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপ
থাকলেও সেটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ এই মাস্টারমাইন্ড। তবে এত বড় টুর্নামেন্ট সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতির কোনো পরিকল্পনা না থাকায় বাফুফের কঠোর সমালোচনা করেন কোচ। জানান এই লেভেলের ফুটবল নিয়ে বাফুফের কোনো ধারণাই নেই।
হেড কোচ বলেন, হয়তো এই বাফুফের অনেকে এই লেভেলের ফুটবল বোঝেন না। মাঝেমধ্যে ফুটবল জীবনেরও। তুমি ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফলের ফাটল ধরে ফেলেছ। আর এটা শুধু প্রথম ১০ মিনিটে দুটি গোল করা এবং পরবর্তী ২০ মিনিটে পরবর্তী ২০ মিনিটে দুটি গোল করা নয়। এটা পারফরম্যান্স, বিশ্বাসযোগ্য পারফরম্যান্স একত্রিত করার বিষয়, যা তুমি ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে পারো।
তারুণ্যের শক্তিতেই বাজিমাত বর্তমান দলে প্রায় ৪৮ শতাংশ ফুটবলারের বয়স ২০ বছরের নিচে। এই তরুণ তুর্কিদের লড়াকু মানসিকতাই কোচের প্রধান অস্ত্র। তিনি চান না বড় দলের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে মেয়েরা তাদের সহজাত আক্রমণাত্মক মেজাজ হারিয়ে ফেলুক।
অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার অবশ্য বেশি প্রত্যাশার কথা জানাননি। বড় দলের বিপক্ষে যেভাবে খেলা দরকার ঠিক সেভাবেই খেলতে চার। আফঈদা বলেন, আমরা কয়েক দিন আগে ওমেন্স লিগ শেষ করেছি। তারপরে যে কয়দিন সময় পেয়েছি আমরা কোচের কাছে প্র্যাকটিস করেছি। কোচ আমাদের দেখাচ্ছে যে আমরা কীভাবে খেলব। যেহেতু আমাদের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তান অনেক শক্তিশালী টিম। তো আমরা প্র্যাকটিসে ওভাবেই কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো কিছু করব। আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন যাতে আমরা ভালোভাবে ফিরে আসতে পারি এবং আমাদের সেরা খেলাটা আমরা খেলতে পারি।
বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে সিডনিতে ৭ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প করবে। সেখানে ক্যাম্প শেষে মূল ভেন্যুতে যাবে বাংলাদেশ দল। খেলা শুরু আগামী ১ মার্চ থেকে, চলবে ২১ মার্চ পর্যন্ত।
এফআর