বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইস্যুতে দীর্ঘদিন পর মুখ খুললেন বিসিবির সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘উনি খাঁড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেই পারছি না। আমি কিভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাব।
উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।’
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়া আমাদের সিদ্ধান্ত নয়, সিদ্ধান্তটা খেলোয়াড়রাই নিয়েছে। তারা আত্মত্যাগ করে...।’
আসিফ নজরুলের এমন বক্তব্যকে পুরোপুরি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
একটা বিশ্বকাপ মানে একজন ক্রিকেটাররের ক্যারিয়ারের আরাধ্য স্বপ্ন। নিজেকে প্রমাণের অনন্য মঞ্চ। কিন্তু টাইগারদের সেই বিশ্বকাপ হয়ে গেল বিতর্কের গল্প। আইসিসির দ্বিচারিতার বলি বাংলাদেশে। তবে, দায়িত্বপ্রাপ্তরা আরও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারতেন কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন ছিল শুরু থেকে।
কিন্তু তা না করে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সব দায় চাপালেন ক্রিকেটারদের উপর। যা খেলতে না পারার কষ্টের চেয়েও বেশি আঘাত লেগেছে টাইগারদের মনে। মূলত তা নিয়েই ক্ষোভ ঝাড়লেন সিনিয়র সহকারি কোচ।
ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ ঘিরে স্বপ্ন থাকে অনেক। নতুনদের কাছে আরও বিশেষ। মেগা আসর হাতছাড়া হওয়ার পর মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েন দুই ক্রিকেটার। তাদের আবারো ক্রিকেটে ফেরানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সালাউদ্দিনের।
তার ভাষ্যমতে, ‘একটা ছেলে যখন বিশ্বকাপ খেলবে, সে এখানে তার ২৭ বছরের স্বপ্ন নিয়ে আসছে। স্বপ্নটা এক সেকেন্ডে আপনি নষ্ট করে দিলেন। যদি ক্ষতির কথা বলেন, তাহলে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা বলব না। আমার দুটো খেলোয়াড়, পাঁচদিন ধরে কোমায় থাকার (মানসিকভাবে) অবস্থায় চলে গিয়েছিল।
আমরা যে ওদের টুর্নামেন্ট আয়োজন করে মাঠে ফিরিয়ে আনছে পারছি ওটাই বেশি। আমার মনে হয়, কোচিংয়ে এটা আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য। দেশের স্বার্থে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে রাজি আছি, ছেলেরাও রাজি আছে। কিন্তু আমি কি ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে (সান্ত্বনা) দিয়েছি? সেটা করলে অনেক কিছু মানা যায়।’
সময়ের আলো/এআর