পেঁয়াজ বীজ চাষে কৃষি উদ্যোক্তার বাজিমাত

রেজাউল করিম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

সারাদেশ

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় কালো স্বর্ণ খ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ন আহম্মেদ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। শুধু

2026-02-20T22:35:22+00:00
2026-02-20T22:35:22+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
পেঁয়াজ বীজ চাষে কৃষি উদ্যোক্তার বাজিমাত
রেজাউল করিম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম 
কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ন আহম্মেদ। সংগৃহীত ছবি
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় কালো স্বর্ণ খ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ন আহম্মেদ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। শুধু পেঁয়াজের বীজ চাষ করেই ১০-১২ লক্ষাধিক টাকা আয়ের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। হুমায়ন কৃষিতে একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন সফল কৃষক। হুমায়নের সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে কালো স্বর্ণ খ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার আরও অনেক চাষি। 

সাধারণত নভেম্বর মাস বীজতলায় বা জমিতে পেঁয়াজ বীজ বপনের সময়। বীজ পরিপক্ব হতে সময় লাগে ১৩০ থেকে ১৫০ দিন। পরাগায়ন না হলে পেঁয়াজ ফুলে পরিপক্বতা আসে না। আর এসব ফুলে পরাগায়নের প্রধান মাধ্যম হলো মৌমাছি। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করেন। কিন্তু সেই কীটনাশকে মারা পড়ছে উপকারী পোকা ও মৌমাছি। এ কারণে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেতে দিন দিন মৌমাছির আনাগোনা কমে যাচ্ছে। তাই হাতের স্পর্শে কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের চেষ্টা চলছে।  

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, পেঁয়াজের বীজের চাহিদা সারা দেশেই বাড়ছে। গোয়ালন্দে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য যেসব কৃষকরা আছেন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বীজ উৎপাদন করছেন। এ বছর বীজ উৎপাদনের জন্য পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মানসম্মত বীজ উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা করি। পুরো উপজেলায় প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক বছরে পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলায় ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারও বীজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে এখানকার কৃষকদের। কৃষি বিভাগ বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গোয়ালন্দ উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ বপন করা হয়েছে। এসব বীজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায়ও পাঠানো সম্ভব হবে। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন। দাম বেশি হওয়ায় এ বীজকে কৃষকরা তুলনা করেন স্বর্ণের সঙ্গে। 

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ড তোরাপ শেখের পাড়ায় থাকেন কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়ন আহমেদ। আলাপকালে তিনি বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমি এ বছর ৬০০ গ্রাম দানা বাইরে থেকে আমদানি করে ৪৪ শতাংশ জমিতে ৪০০ কেজি বুশরা জাতের গুটি পেঁয়াজ লাগিয়েছি। আশা করছি এই ক্ষেত থেকে ২০০ থেকে ২১০ কেজি বীজ সংগ্রহ করতে পারব, যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর এই বীজ সংরক্ষণ করে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করলে কেজিপ্রতি ৮ হাজার টাকা দামে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা খরচ বাবদ ১৩/১৪ লাখ টাকা লাভ করব বলে আশা করছি। 

সরেজমিন উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তোরাপ শেখের পাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাদা রঙের ফুলে ছেয়ে গেছে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত। মাঠজুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে সাদা রঙের পেঁয়াজ ফুল। সাদা ফুলের মধ্যেই রয়েছে কালো স্বর্ণ। আর কৃত্রিমভাবে পেঁয়াজের ফুলে পরাগায়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক হুমায়ন আহম্মেদ। তিনি তার ক্ষেতে পেঁয়াজের ফুল যাতে করে নষ্ট বা বাতাসের কারণে ভেঙে না যায় সে জন্য তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে বীজের ক্ষেতে মাঝ বরাবর জাল বেঁধে দিয়েছেন। তার আধুনিক পদ্ধতি ইতিমধ্যে অনেক কৃষকের দৃষ্টি কেড়েছে এবং তাদের মধ্যে পেঁয়াজ বীজে বপনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। 

সময়ের আলো/আ



  বিষয়:   পেঁয়াজ  বীজ  চাষ  কৃষি  উদ্যোক্তা  বাজিমাত 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: