‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’—বাঙালির আবেগের চিরন্তন এক বহিঃপ্রকাশ। ১৯৫২ সালে সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর কলমে জন্ম নেওয়া এই কবিতাটি কীভাবে আজকের বৈশ্বিক সুরে রূপ নিল, তার পেছনে রয়েছে এক অনন্য ইতিহাস।
কবিতাটির প্রথম সুরকার ছিলেন শিল্পী আব্দুল লতিফ। ১৯৫২ সালের শেষের দিকে তিনি কবিতাটির ওপর একটা সুর করেন । তবে ১৯৫৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে কিংবদন্তি আলতাফ মাহমুদ এতে নতুন সুরারোপ করেন। তৎকালীন লেখক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের মতে, আব্দুল লতিফের সুরটি মন্দ ছিল না। কিন্তু কীসের যেন অভাব ছিল তাতে। আলতাফ মাহমুদের নতুন সুরে জনতার কর্ণে যেন মধু ঢেলে দিলো। কী ভীষণ মাদকতা, কী ভয়ংকর আকর্ষণ সে সুরের!
১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের এক অনুষ্ঠানে গানটি আলতাফ মাহমুদ নতুন সুরে পরিবেশিত হওয়ার পর থেকেই তা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদের তথ্যমতে, বর্তমানের সুরটি ছিল আলতাফ মাহমুদের তৃতীয়বারের প্রচেষ্টার ফল। মজার বিষয় হলো, নিজের সুরের চেয়ে আলতাফ মাহমুদের সুরটি বেশি শক্তিশালী হওয়ায় শিল্পী আব্দুল লতিফ কোনো অভিমান না করে বরং প্রশংসা জানিয়ে নিজের সুরটি প্রত্যাহার করে নেন।
১৯৫৪ সালের প্রভাত ফেরিতে প্রথম গাওয়া হওয়ার পর থেকেই এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেওয়া’-তে গানটি ব্যবহার করলে এর আবেদন বহুগুণ বেড়ে যায়।
আজ এই গানটি কেবল বাংলার নয়, বরং বিশ্বের ১২টি ভিন্ন ভাষায় গীত হয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রধান সংগীতে পরিণত হয়েছে।
/ইউএমএইচ