চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের হোঁচট খাওয়ার সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগাল বার্সেলোনা। অবনমন অঞ্চলের দল লেভান্তেকে ঘরের মাঠে অনায়াসেই হারিয়ে স্প্যানিশ লা লিগার পয়েন্ট তালিকার সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যুয়ে ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় জয় পায় কাতালনরা। এই জয়ের মাধ্যমে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা তিন ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখল কাতালান ক্লাবটি। ২৫ ম্যাচে ২০ জয় ও এক ড্রয়ে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে এখন তালিকার শীর্ষে বার্সেলোনা; সমান ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে আগের দিন ওসাসুনার কাছে হেরে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচজুড়ে প্রায় ৭৩ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে লেভান্তের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে তারা ২২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে লেভান্তে প্রতি-আক্রমণে কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তাদের ৫টি শটের মধ্যে মাত্র ২টি লক্ষ্যে ছিল। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য লেভান্তে চমকে দিতে পারত। এরিক গার্সিয়াকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও দুর্বল শট নিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন কার্লোস আলভারেস। তবে চতুর্থ মিনিটেই এরিক গার্সিয়ার ক্রসে সøাইড করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন তরুণ মিডফিল্ডার মার্ক বের্নাল।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং। জোয়াও কানসেলোর চমৎকার ক্রসে এক দুর্দান্ত ভলিতে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এই ডাচ মিডফিল্ডার, যা চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে তার প্রথম গোল। প্রথমার্ধেই বার্সেলোনা আরও কিছু সুযোগ পেলেও লেভানদোভস্কি ও রাফিনিয়ারা গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বা লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে ব্যবধান বাড়াতে পারেননি।
বিরতির পর ৬৬ মিনিটে চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরেন তারকা মিডফিল্ডার পেদ্রি। তার সঙ্গেই বদলি হিসেবে নামেন ফের্মিন লোপেস। মাঠে নামার ১৫ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ৮১ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন লোপেস। লামিন ইয়ামালের কাছ থেকে বল পেয়ে এক জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। শেষদিকে রাফিনিয়া ও লোপেসের আরও দুটি প্রচেষ্টা লেভান্তে গোলরক্ষক রুখে দিলে ব্যবধান আর বাড়েনি।
এদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টটেনহ্যাম হটস্পারকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টেবিল টপার আর্সেনাল। স্পার্সদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে গানাররা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় আর্সেনাল। সপ্তম মিনিটে ভিক্তর ইয়োকেরেশের কোনাকুনি শট পোস্টের বাইরে দিয়ে গেলেও গোলের জন্য তাদের খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ডানদিক থেকে আসা সতীর্থের বল দারুণ এক ভলিতে জালে পাঠিয়ে আর্সেনালকে এগিয়ে নেন ইংলিশ উইঙ্গার এজ। লিগের প্রথম দেখায় গত নভেম্বরে হ্যাটট্রিক করার পর টানা ১৯ ম্যাচ গোলহীন থাকা এজ আবার সেই টটেনহ্যামকে পেয়েই নিজের গোলখরা কাটান। তবে আর্সেনালের এই এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৪ মিনিটে কোলো মুয়ানির একক নৈপুণ্যে দ্রুতই সমতায় ফেরে টটেনহ্যাম।
দ্বিতীয়ার্ধেও শুরুতেই আবার লিড নেয় গানাররা। ৪৭ মিনিটে ইউরিয়েন টিম্বারের পাস থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড ইয়োকেরেশ। এরপর ৬১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিতের পথে নিয়ে যান এজ। ম্যাচের শেষদিকে রিশার্লিসনের একটি নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা ডেভিড রায়া গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিলে ব্যবধান কমাতে ব্যর্থ হয় টটেনহ্যাম। উল্টো যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মার্টিন ওডেগোরের পাস ধরে ইয়োকেরেশ নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় আর্সেনালের।