শিশুদের রোজার অনুশীলন

মাওলানা নুর মুহাম্মাদ

ইসলাম

মানুষের অভ্যাস গড়ে ওঠে ছোটবেলায়। বড় হয়ে মানুষ সে কাজটিই করে, যা সে ছোটবেলায় দেখে ও অভ্যাস করে। তাই রমজান

2026-02-26T15:28:41+00:00
2026-02-26T15:37:29+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
শিশুদের রোজার অনুশীলন
মাওলানা নুর মুহাম্মাদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৮ পিএম  আপডেট: ২৬.০২.২০২৬ ৩:৩৭ পিএম
পরিবারের শিশুদের রোজার অনুশীলন। ছবি : সংগৃহীত
মানুষের অভ্যাস গড়ে ওঠে ছোটবেলায়। বড় হয়ে মানুষ সে কাজটিই করে, যা সে ছোটবেলায় দেখে ও অভ্যাস করে। তাই রমজান মাসের রোজা রাখতে তাদের উৎসাহ দেওয়া, তাদের নিয়ে জামাতের সঙ্গে তারাবিহ নামাজ পড়া, একসঙ্গে সেহরি ও ইফতার করা। তারা রোজা রাখলে সবার সামনে বাহবা দেওয়া, প্রশংসা করা। সম্ভব হলে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা। তাদের পছন্দমতো ইফতারের অফার করা। এতে তারা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবে। এভাবে ধীরে ধীরে নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদতে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

যেসব শিশুকে ছোটবেলায় রোজা রাখতে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা হয় না, পরিবারে রোজা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয় না, তারা বড় হলে রোজা রাখতে পারে না বা রাখলেও প্রচণ্ড কষ্ট হয়। পক্ষান্তরে যেসব সন্তানকে ছোটবেলাতেই রোজা রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়, মা-বাবার সঙ্গে নিয়ে তারাবিহ নামাজ পড়েন, একসঙ্গে সেহরি খান, ইফতার করেন, সন্তানদের দিয়ে পাশের আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশীর বাসায় ইফতার পাঠান, সেসব শিশুর বড় হয়ে রোজা রাখতে একটুও কষ্ট হয় না। বরং তারা রোজা না রাখলে মনের ভেতর এক ধরনের অস্বস্তি ও অশান্তি অনুভব করে। আর হ্যাঁ শিশুদের রোজার সওয়াব তাদের মা-বাবারা প্রাপ্ত হন। দুঃখজনক হলেও সত্য, কোনো কোনো মা-বাবা শিশুদের তো দূরের কথা, রোজা ফরজ হয়েছে, এমন সন্তানদেরও রোজা রাখতে নিরুৎসাহিত করেন বা রাখতে দেন না। এই ভয়ে, রোজা রাখলে গরমে তাদের কষ্ট হবে। শরীর শুকিয়ে যাবে। পড়াশোনা করতে পারবে না। পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হবে ইত্যাদি। আশ্চর্য, তারা সন্তানদের ইহকালীন পরীক্ষাকে ভয় করেন অথচ আখেরাতের মহা পরীক্ষাকে ভয় করেন না। দুনিয়ার সামান্য কষ্টকে ভয় করে অথচ জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভয় করে না। সন্তানদের দুনিয়াবি জীবনের ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে অথচ আখেরাতের জীবনের শেষ পরিণামের কথা ভাবে না। তা ছাড়া ডাক্তারি শাস্ত্র এবং বিজ্ঞানও বলে, বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে উপোস থাকলে মানে রোজা রাখলে মানুষের কোনো ক্ষতি হয় না। বরং শারীরিক অনেক উপকারিতা লাভ হয়।

রাসুল (সা.), সাহাবায়ে কেরাম এবং পরবর্তী মনীষীরাও ছোটদের রোজা রাখতে উদ্বুদ্ধ করতেন, উৎসাহ জোগাতেন। শুধু তাই নয়, অভিভাবকদেরও বলতেন যেন তাদের শিশুদের রোজা রাখতে উৎসাহ দেন। ওমর (রা.) রমজানে এক নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘তোমার জন্য আফসোস! আমাদের ছোট শিশুরা পর্যন্ত রোজাদার (অথচ তুমি রোজা রাখো না)!’ এরপর ওমর (রা.) তাকে প্রহার করেন। এর ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানি (রহ.) লিখেছেন, ইবনে সিরিন, ইমাম জুহুরি ও ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-সহ পূর্ববর্তী বহু মনীষী শিশুদের রোজায় অভ্যস্ত করানোকে মুস্তাহাব ইবাদত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে, নামাজের মতো সাত থেকে ১০ বছরের শিশুদের রোজায় অভ্যস্ত করানো যায় (ফাতহুল বারি : ৫/৩)।


রুবাইয়ি বিনতে মুআব্বিয (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আশুরার সকালে আনসারদের সব পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি রোজা পালন করেনি, সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে আর যার রোজা অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন রোজা পূর্ণ করে। তিনি (রুবাইয়ি) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ওই দিন রোজা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদের রোজা রাখতে দিতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ওই খেলনা দিয়ে ইফতার পর্যন্ত ভুলিয়ে রাখতাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)


সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   শিশু  রোজা  রমজান  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: