পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে পরিচালিত এক অভিযানে দুই প্রদেশ—খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে—মোট ৩৪ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী সংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। নিহতদের মধ্যে ২৬ জন খাইবার পাখতুনখোয়ায় এবং ৮ জন বেলুচিস্তানে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিহতদের মধ্যে একজন আফগান নাগরিক রয়েছেন।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি। খাইবার পাখতুনখোয়ায় উত্তর ওয়াজিরিস্তান, লাক্কি মারওয়াত ও বান্নু জেলায়, এবং বেলুচিস্তানের সাম্বাজা এলাকায় চার দফা অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিহতরা পাকিস্তানের তালেবানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্য। কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করার সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, বেলুচিস্তানে নিহতরা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-এর সদস্য।
অভিযান চলাকালীন সন্ত্রাসীদের গুলিতে চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া টিটিপি’র ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত, আর বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বিএলএর বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।
পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার হার ২০২১ সাল থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে মোট ৪৪টি সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রতিবেশী দেশ ভারত ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে থাকে, যদিও উভয় দেশই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
/ইউএমএইচ