মানুষ কথা বলতে অভ্যস্ত। অনেকে কথা না বলে থাকতেই পারে না। আবার কেউ একবার কথা বলতে শুরু করলে আর যেন থামতে চান না। এ কথা দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায়। আবার কথা দিয়ে মানুষের মনকে ক্ষতবিক্ষত করা যায়। এ কথা নিয়ে এখন বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলে ‘টকশো’ হয়। এসব টকশোতে কত ধরনের কথা হয়। এ কথনে কারও কারও মুখ থেকে বেফাঁস কথা বের হয়ে যায়। এ নিয়ে হয়তো এক সময় হইচই পড়ে যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সময়ের আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার শিরোনাম হচ্ছে— বেফাঁস কথা বলতে মানা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র কয়েক দিন। এর মধ্যে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী অতিকথনের কারণে আলোচনায় এসেছেন।
তাদের বক্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে বিরোধী পক্ষ জামায়াতের ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করছে।
তবে আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রীদের কথার লাগাম টেনে ধরতে চান। ইতিমধ্যে তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন, কথা কম বলে কাজে মনোযোগ দিতে। এমনকি নিজের দায়িত্বের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলতে বারণ করেছেন।
বাস্তবতা হচ্ছে, কোন মন্ত্রী এমন কোন কোন বক্তব্য দিচ্ছেন যা নিজের মন্ত্রণালয়ের বাইরে। গণমাধ্যমে কোন ধরনের বক্তব্য দিলেই নিমিষেই তা অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে যখন বক্তব্য কিছুটা হেরফের হয়ে যায় তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তা সুযোগ নিতে চায়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কিছুটা হলেও চাপ বেড়ে যায়।
বিএনপি সরকার কেবল দায়িত্বে এসেছে। মাত্র কয়েক দিন। এই অল্প সময়ে কারও উচিত হবে না এমন কিছু বক্তব্য দিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সরকারের মাত্র এই কয়েক দিনে যে ধরনের চিত্র সবার সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে তা সত্যি প্রশংসনীয়।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ম বেঁধে ঘড়ির কাঁটা ধরে সকাল সকাল অফিস করা। নিজের যাওয়া-আসার পথে কোন ধরনের জনগণের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া। সব যেন এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার প্রথম দিন থেকে যেভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তা সত্যি প্রশংসনীয়।
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিন অর্থাৎ ৬ মাসের কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার জন্য মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি মন্ত্রীদের জন্য সফলতার চাবিকাঠি হতে পারে। কারণ এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে যার তরফ থেকে তাদের পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথা নয় কাজে অভ্যস্ত করার পথ দেখাচ্ছেন। এমনকি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই প্রথম দিন বলেছেন, কথা কম। কাজ বেশি।
অর্থাৎ তিনি বুঝে গেছেন, বেশি কথা বলতে গেলে বেফাঁস কথা বেরিয়ে আসতে পারে। যা খুব ফলপ্রসূ হবে না। বাস্তবতা বুঝতে হবে নতুন সরকারের সব মন্ত্রীকে। মন্ত্রীদের সামনে বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা প্রশ্ন করতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন উত্তর দিতে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যা ভালোর চেয়ে খারাপ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তাই তো তিনি চটকদার কথা বন্ধেও নির্দেশ দিয়েছেন।
এফআর