কূটনীতির আড়ালে ভূরাজনৈতিক চাপের বাস্তবতা

মো. শাহিন আলম

মতামত

সাম্প্রতিক পুশইন সংকটকে কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা কিংবা বিএসএফ এবং বিজিবির রুটিন জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করলে মূল সংকটের গভীরতা আড়ালেই

2026-06-22T06:05:33+00:00
2026-06-22T06:05:33+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
মতামত
ভারত-বাংলাদেশ পুশইন সংকট
কূটনীতির আড়ালে ভূরাজনৈতিক চাপের বাস্তবতা
মো. শাহিন আলম
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:০৫ এএম 
গ্রাফিক্স : সময়ের আলো
সাম্প্রতিক পুশইন সংকটকে কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা কিংবা বিএসএফ এবং বিজিবির রুটিন জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করলে মূল সংকটের গভীরতা আড়ালেই থেকে যাবে। ভারতের মহারাষ্ট্র, আসাম বা দিল্লি থেকে তুলে এনে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের ওপারে ঠেলে দেওয়া এই মানুষগুলো কেবল জোরপূর্বক বহিষ্কৃত ব্যক্তি নন, এরা একটি সুনির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক বার্তারও বাহক বটে। 

এই বার্তার পাঠোদ্ধার করতে না পারলে বাংলাদেশ প্রতিবারের মতো এবারও কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদের বৃত্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে। দ্বিপক্ষীয় সম্মেলন শেষে শান্তি ও স্থিতিশীলতার চেনা অঙ্গীকারসংবলিত যৌথ বিবৃতি আসবে, কিন্তু সংকট আবর্তিত হবে চক্রাকারেই। 

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিশেষত পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর আদর্শিক রূপান্তর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তরেখার আশি শতাংশেরও বেশি এলাকা এখন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি বা বিজেপি শাসিত রাজ্যের (আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ) নিয়ন্ত্রণে। এর প্রভাব কেবল প্রশাসনিক রদবদলে সীমাবদ্ধ নয়। 

দিল্লির ঐতিহ্যগত নেবারহুড ফাস্ট বা প্রতিবেশী প্রথম নীতি এখন আর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মূল চালিকাশক্তি নয়, বরং তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ ও আদর্শিক চাহিদা দিয়ে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সীমান্ত কেবল দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিভাজনরেখা নয়, বরং সভ্যতাগত নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ হিসেবেও উপস্থাপিত। 

ফলে তথাকথিত অবৈধ অভিবাসনকে সাধারণ প্রশাসনিক সমস্যা হিসেবে না দেখে বাংলাভাষী মুসলমানদের দ্বারা পূর্বাঞ্চলে একটি জনতাত্ত্বিক অনুপ্রবেশ হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে। এই ফ্রেমিংয়ের কারণে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সমঝোতার স্বাভাবিক সুযোগগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

এখানে একটি সংযোগ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কাশ্মিরের পাহেলগামে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পরপরই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলোকে ৩০ দিনের মধ্যে অবৈধ বাংলাদেশি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেয়। কাশ্মিরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে এই বাংলাদেশবিরোধী অভিযানের সময়গত সংযোগ আকস্মিক নয়। 

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক ট্রপ, যা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত সংহত করতে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। আসামের বিতর্কিত এনআরসি এবং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যেভাবে লাখো মানুষকে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রহীন ও ডি ভোটার বানিয়ে রেখেছিল, বর্তমান পুশইন হলো সেই অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ারই একটি ভূরাজনৈতিক রূপান্তর। ভারত মূলত তার অভ্যন্তরীণ আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার দায় এখন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের ওপর চাপাতে চাইছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী মে মাসের শুরু থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে দেড় হাজারেরও বেশি মুসলমান পুরুষ, নারী ও শিশুকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ১২৬ জনের নথি নিশ্চিত হওয়া গেছে যারা আসলে ভারতেরই বৈধ নাগরিক। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকাশ্য জনসভায় স্বীকার করেছেন যে তারা মানুষদের আক্ষরিক অর্থেই সীমান্তে নিয়ে ওপারে ঠেলে দেন। এই স্বীকারোক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ। 

এতে স্পষ্ট হয় যে এটি কোনো স্থানীয় বিএসএফ সদস্যের অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ড নয়, বরং রাষ্ট্রীয়গতভাবে নীতিগত অবস্থান।

গত ৮ থেকে ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি এবং বিএসএফের ৫৭তম সম্মেলন দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে পুশইনের মতো কেন্দ্রীয় বিতর্কের কোনো স্পষ্ট উল্লেখ রাখা হয়নি। ভারতীয় পক্ষ বিষয়টিকে ইতিবাচক ও সামনে তাকানো বলে পাশ কাটিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোয় পুশইনের এই অবস্থানকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয় বলেই সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি আলোচনার টেবিলের বাইরে রাখা হয়েছে। 

এই কূটনৈতিক নীরবতার বাস্তব মূল্য দেখা গেল সম্মেলন শেষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, যখন মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক মুজিব আলী নিহত হলেন। এই সংকটের কাঠামোগত গভীরতা বুঝতে হলে বাংলাদেশের বর্তমান কৌশলগত অবস্থানের দিকে তাকাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফর এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে এই সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দিয়েছেন, যেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ চীন মিয়ানমার সড়ক সংযোগের মতো কৌশলগত প্রকল্পগুলো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দিল্লি এই প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পূর্ণ সজাগ। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেকের ভূকৌশলগত নিরাপত্তার প্রশ্নে দিল্লির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

এই বিচারে পুশইন সংকটকে নদী কূটনীতির সঙ্গে একসূত্রে পড়তে হবে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে ঢাকাকে বঞ্চিত রাখা এবং সীমান্তে পুশইন ও হত্যার স্থায়ী চাপ অব্যাহত রাখা, এই দুটি ইস্যুই দিল্লি একযোগে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে চীনের দিকে কতটা ঝুঁকবে, তার বিপরীতে ভারত সীমাে এবং অভিন্ন নদীগুলোর প্রশ্নে কতটা কঠোর হবে, এটি সেই হিসাবেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।

বর্তমান সরকার এখন একটি কাঠামোগত অসাম্যের মধ্যে আছে। অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক ও ভূকৌশলগত বাস্তবতায় ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বৈরিতা বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে যেমন কঠিন, তেমনি কোনো বাংলাদেশি সরকারের পক্ষে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ন্যারেটিভ মুখ বুজে মেনে নেওয়াও রাজনৈতিকভাবে টেকসই নয়। কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত। 

সীমান্তের পুশইন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো অভ্যন্তরীণ জাতীয়তাবাদী জনমতকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করছে। ফলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং দেশের ভেতরের তীব্র ভারতবিরোধী জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কোনো আকস্মিক গণ বহিষ্কারের ঘটনা নয়, বরং বিপদ হলো ধীরগতির স্বাভাবিকীকরণ। বাংলাভাষী মানুষের বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী সন্দেহের মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ তৈরি করা এবং বিক্ষিপ্ত আটক ও পুশইনের অনির্দিষ্ট হুমকি জারি রাখা, এই প্রক্রিয়াগুলো সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল করে তোলে। কোনো আইন বা চুক্তি পরিবর্তন না করেও কেবল মাঠ পর্যায়ের কঠোরতা বাড়িয়ে এই অবস্থা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এই একপক্ষীয় সীমান্তনীতি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে কার্যত অকার্যকর করে দিচ্ছে। 

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্রটি যখন আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় রীতি লঙ্ঘন করে পুশইনকে অলিখিত রাষ্ট্রীয় নীতি বানিয়ে ফেলে, তখন আঞ্চলিক সংযোগ ও যৌথ নিরাপত্তার ধারণাটি অর্থহীন হয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় হিসেবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কৌশলগত মহলে যে তিনটি স্তরে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব উঠছে, সেগুলোর বাস্তব সীমাবদ্ধতাও সমান মনোযোগের দাবি রাখে।

প্রথমত জাতিসংঘ ও ওআইসিতে পুশইনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোয় তোলা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পথে বাংলাদেশ কতটা এগোতে পারবে। পুশইন নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান নিতে হলে বাংলাদেশকে আগে ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর করতে হবে, যা বাংলাদেশ এখনও করেনি। এই আইনি শূন্যতা ঢাকার অবস্থানকে দুর্বল করে রাখে। 

পাশাপাশি জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিলে দিল্লি তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বৈরিতা হিসেবে চিহ্নিত করবে। বাণিজ্য, ট্রানজিট ও পানি- এই তিনটি ক্ষেত্রেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা ভারতের আছে। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ এই ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি এবং সেই দ্বিধার পেছনে নিছক কূটনৈতিক দুর্বলতা নয়, কাঠামোগত নির্ভরতাও রয়েছে।

দ্বিতীয়ত চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে ভারতের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করা। এই কৌশলের একটি বাস্তব ভিত্তি আছে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এবং প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বেইজিং সফর দিল্লিকে ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে। কিন্তু এই কার্ডের একটি নিজস্ব মূল্য বা কস্ট আছে। 

চীনের সঙ্গে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর হলে বাংলাদেশ ভারতের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে দিল্লি ও ওয়াশিংটন উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্কের সমীকরণ হিসাব করে চলতে হবে। মিয়ানমার বা শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখায় যে চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ও রাজনৈতিক নির্ভরতার নিজস্ব ফাঁদ তৈরি করে। অর্থাৎ ভারতের চাপ এড়াতে চীনমুখী হওয়া একটি ভারসাম্যের কৌশল হতে পারে, তবে সেটি নিজেই একটি নতুন অসাম্যের ঝুঁকি তৈরি করে।

তৃতীয়ত প্রতিটি পুশইন ও সীমান্ত হত্যার সুনির্দিষ্ট নথি ও আইনি প্রমাণ সংরক্ষণ করা। এটি সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এবং সবচেয়ে কম ব্যয়সাধ্য প্রস্তাব হলেও এটিই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। এর কারণ কেবল প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা নয়, বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিকভাবে এই ধরনের নথি তৈরিতে অনীহা। কারণ সুনির্দিষ্ট নথি মানে সুনির্দিষ্ট দাবি, আর সুনির্দিষ্ট দাবি মানে সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান। 

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখার যে অলিখিত নীতি দশকের পর দশক ধরে চলে আসছে, নথি সংরক্ষণের দাবি সেই অস্পষ্টতাকেই চ্যালেঞ্জ করে। এই রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দূর না হলে এই প্রস্তাবটিও কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।

সংক্ষেপে তিনটি প্রস্তাবের প্রতিটিই তাত্ত্বিকভাবে বাস্তবসম্মত কিন্তু প্রতিটির সামনেই একটি করে কাঠামোগত বাধা আছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সামনে আসল পরীক্ষা তাই কেবল কৌশল নির্বাচনের নয়, বরং সেই কাঠামোগত বাধাগুলো অতিক্রম করার রাজনৈতিক সংকল্পের।

ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে ওয়াশিংটন, বেইজিং ও দিল্লির মধ্যকার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই আগামী দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। পুশইন সংকট সেই গভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতারই একটি দৃশ্যমান উপসর্গ। মূল প্রশ্নটি হলো বাংলাদেশ এখনও একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সক্রিয় ভূরাজনৈতিক কৌশল ছাড়াই মহাশক্তিগুলোর পারস্পরিক চাপের মুখে কেবল প্রতিক্রিয়াশীল কূটনীতি দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে কি না। 

দিল্লির দ্বিমুখী চাপ অর্থাৎ অভিন্ন নদীর পানি আটকে রাখা এবং সীমান্তে পুশইন মোকাবিলা করার একমাত্র কার্যকর পথ হলো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমাত্রিক ভারসাম্যের একটি সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক অবস্থান। সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষগুলো আসলে আমাদের সেই কৌশলগত ঘাটতিরই সবচেয়ে দৃশ্যমান ও বেদনাদায়ক পরিণতি।

প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট 

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   ভারত  বাংলাদেশ  পুশইন সংকট  ভূরাজনৈতিক 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: